সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ভরা হচ্ছিল পাঁচ মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানে। সেই সময়ই সেখানে আছড়ে পড়ল ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। আর তারই আঘাতে 'ক্ষতবিক্ষত' হয়েছে বিমানগুলি। সেগুলিকে সারানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মার্কিন হামলায় বিমানগুলি ধ্বংস হয়নি। তবে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। দ্রুত সেগুলি মেরামতির কাজ চলছে। তবে এই হামলায় কেউ মারা যায়নি বলে আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে।
এদিকে এদিনই ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের ‘মুকুট’ বলে পরিচিত এই ছোট্ট দ্বীপটির গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম। ইরানের উপকূল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এখান থেকেই যাবতীয় অপরিশোধিত তেল বিদেশে পাঠায় তেহরান। এখানে বড় আঘাত মানেই যে ইরানের অর্থনীতির ‘বুকে’ হামলা তা বলাই যায়। এবার ট্রাম্পের লক্ষ্যে সেই দ্বীপ। তবে এখনও পর্যন্ত ওই দ্বীপের তেল শোধনাগারে হামলা করা হয়নি। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করতে না দিলে সেখানেও অচিরে হামলা করতে পারে ওয়াশিংটন। হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।
এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের দাবি, ইরানের অন্তত ১৫ হাজার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গেই তাদের দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছে। সেদেশের নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ মোজতবা খামেনেইও গুরুতর জখম। এহেন পরিস্থিতিতে খার্গ দ্বীপেও হামলা করে আমেরিকা চাপ বাড়িয়েছে ইরানের উপরে।
প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে হরমুজ থেকে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের বাহিনী আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এক লিটার তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যাবে না।
