প্রায় তিনমাস হতে চলল ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের (Iran US war)। একের পর এক মধ্যস্থতা, শান্তি বৈঠকেও যুদ্ধ থামেনি। এবার আমেরিকার তরফ থেকে ইরানকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে তেহরান। সূত্রের খবর, যুদ্ধ বন্ধ করতে এক পাতার স্মারকলিপি পেশ করেছে আমেরিকা। সেই প্রস্তাবে ইরান সাড়া দিতে পারে বলে দাবি সংবাদসংস্থা রয়টার্সের।
আশঙ্কা সত্যি করে মধ্যপ্রাচ্যে ফের শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এহেন পরিস্থিতিতে ইরানকে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকা। যদিও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। এখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক প্রস্তাবও ইসলামাবাদের মাধ্যমেই ইরানের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৪টি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে আমেরিকার তরফ থেকে। পাকিস্তানের মতও নেওয়া হয়েছে এই শর্তাবলি তৈরির ক্ষেত্রে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রস্তাবের জবাব দেবে ইরান, এমনটাই সূত্রের খবর। এহেন পরিস্থিতিতে রয়টার্স এবং মার্কিন সংবাদপত্র অ্যাক্সিওসের দাবি, মার্কিন প্রস্তাবে সম্মতি দিতে পারে ইরান। কারণ এই প্রথমবার দুপক্ষের মধ্যে একমত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা, সেইসঙ্গে ফ্রিজ করা বিপুল অর্থও মুক্ত করা হবে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তবে এই সময়সীমা কতদিন, সেই নিয়ে মতান্তরের জায়গা রয়েছে।
শান্তি প্রস্তাব পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়েছেন যুদ্ধং দেহি মেজাজেই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করলে তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সাফ বোমা মারার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প সরাসরি জড়িত নন। অন্যান্য দূতদের মাধ্যমে চলছে আলোচনা। ইরান যদিও আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান কী জবাব দেবে এই প্রস্তাবে, তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
