তিন সপ্তাহ ডিঙিয়েছে ইরান যুদ্ধ (Iran War)। ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার 'লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকা' ইত্যাদি বললেও পালটা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটে ধাক্কা খাচ্ছে অর্থনীতি। বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবন। অথচ শুরুতে ইরান যুদ্ধকে 'ছোট অভিযান' বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বর্তমান অবস্থায় সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে ইরান যুদ্ধ! পরিস্থিতি বিপজ্জনক বলেই দাবি করছেন তারা।
মাঝে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বার বার আর্জি জানিয়ে, পক্ষান্তরে হুমকি দিয়েও মিত্ররাষ্ট্রগুলির সামরিক সহায়তা পায়নি আমেরিকা। ইরানে হামলা চালানোর জন্য স্পেনের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, যদিও স্পেন সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে। অন্যদিকে আগ্রাসী নীতি নিয়ে ইরানে লাগাতার হামলা চালিয়েও তেহরানের মনোবল ভাঙতে পারেনি পেন্টাগন। প্রতিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা জবাব দিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর দেশ।
গত চব্বিশ ঘণ্টাতেও চলেছে হুমকি ও পালটা হুমকির যুদ্ধ। ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী না খুলে দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। পালটা ইরান বলেছে--- পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতে হামলা আরও জোরালো করা হবে। এইসঙ্গে তারা জানিয়েছে, হরমুজে বাকিরা ছাড় পেলেও শত্রুপক্ষের জাহাজকে রেয়াত করা হবে না। অর্থাৎ কিনা ইজরায়েলি এবং মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে তারা।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে, এভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতেও যুদ্ধ আদৌ থামবে না। বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। শনিবারই চার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গ্রাসিয়াকে লক্ষ্য করে দু'টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর পর নিশানা হতে পারে লন্ডন, প্যারিসও। এই ভাবনা থেকে আতঙ্ক বাড়ছে ইউরোপের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে। সকলেই বুঝছেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট। এই অবস্থায় কোন পথে হাঁটবেন যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প?
