যুদ্ধের আগুনে দাউদাউ করে পুড়ছে তেহরান। ইরানের রাজধানীর জ্বালানি তেলের পাঁচটি ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এর জেরে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বিধ্বংসী আগুন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু'জন ট্যাঙ্কার চালক-সহ চার জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ইরানের জ্বালানি তেলের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এই তথ্য দিয়েছে। সামনে এসেছে ভয়াবহ ভিডিও। এদিকে অভিযোগ, দেশটির পানীয় জলের পরিশোধনাগারেও টার্গেট করছে শত্রুপক্ষ। অর্থাৎ, হাতে মারার পাশাপাশি ইরানকে ভাতে (এক্ষেত্রে তেষ্টায়) মারার পাশাপাশি কৌশল নিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, যুদ্ধবিমান থেকে তেহরানের তেলের ডিপোগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় তেহরানের আকাশ। ধোঁয়ার কুণ্ডলী এতটাই বড় যে পার্শবর্তী এলাকা কারাজ থেকেও তেহরানের আকাশের ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। একাধিক ভিডিতে দেখা গিয়েছে রাজপথের দু'পাশে আগুনের নদী! মাঝখান থেকে ছুটছে গাড়িগুলি। যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা এই দৃশ্য দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান ডিপোগুলির মধ্যে রয়েছে শাহরান এবং আগাদাসিয়েহ। এছাড়াও একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
প্রকাশ্যে এসেছে তেহরানে থাকা সিএনএন-এর এক সাংবাদিকের ভিডিও। তিনি দাবি করেছেন, তেলের ডিপোতে হামলা হয় শনিবার রাতে। পরদিন সকালে মেঘহীন আকাশ থেকে আচমকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। জলের মধ্যে মিশ্রিত ছিল তেল। রবিবার সকালেও শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল তেহরানবাসীর। কারণ আগুন নিভলেও তখনও বাতাসে কালো ধোঁয়ার রেশ থেকে গিয়েছিল। তবে ইরানের তরফে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তেলের ডিপোতে হামলার পরেও মূল রিজার্ভারগুলি অক্ষত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
