ইরানকে ‘ধ্বংস’ করতে মধ্যপ্রাচ্যে বিগত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-সহ একাধিক মার্কিন রণতরী। কিন্তু সূত্রের খবর, অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজেই শেষ হয়ে গিয়েছে খাবার। নেই পর্যাপ্ত জলও। মাঝ সাগরে গভীর সংকটে দিন যাপন করছেন মার্কিন সেনারা।
শুক্রবার একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এ থাকা সেনাদের কয়েকজন সম্প্রতি নিজেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা তাঁদের শোচনীয় অবস্থা সম্পর্কে জানান। যতদিন যাচ্ছে পরিস্থিতি নাকি আরও খারাপ হচ্ছে। এক মার্কিন সেনার কথায়, “ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর কিছু আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মোতায়েন করা হয়। এত মাস কেটে গেলেও আমরা এখনও পর্যন্ত স্থলভাগের দেখা পাইনি।” আরও এক সেনার দাবি, তিনি গত ১১ মাস মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। অভিযানের শুরুর দিকে তাঁদের রণতরীতে জল সরবরাহ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছিল। এর ফলে তাঁরা স্নান বা কাপড় ধোয়ার সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে স্নানের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। অচল হয়ে পড়ে শৌচালয়ও।
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই সমস্যাগুলি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এ দেখা গেলেও পরবর্তীতে সমস্ত মার্কিণ রণতরীতেই তা ছড়িয়ে পড়ে। মাসের পর মাস সাগরে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধ করছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, যুদ্ধজাহাজের শৌচাগারগুলির মেঝ ঢাকা পড়েছে প্রায় ছ'ইঞ্চি পুরু মানব বর্জ্যে। এক এক রণতরীতে একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন শৌচাগারগুলি ব্যবহার করেন। এক মার্কিন সেনার বাবা বলেন, “আমার ছেলে বর্তমানে কুয়েতে রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। মানসিক ভারসাম্যও প্রায় হারিয়েছে। সে বাড়ি ফিরতে চায়। সে ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত-ভীত। ওকে সাহায্য করুন।"
