‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’। অর্থাৎ কোনও দেশের ভিতরে প্রবেশ করে অন্য দেশের সামরিক অভিযান চালানো। ইরানের জন্য কি তাহলেই সেই নীতিতেই সিলমোহর দিল আমেরিকা? সেই জল্পনাই এখন জোরাল হচ্ছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে পা রাখল সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা। তবে কয়েকজন মার্কিন কর্তাদের উদ্ধৃত করে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানিয়েছে, ইরানে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিতে এখনও অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, ইরানের উপর জোরাল আঘাত হানতে ‘জলদানব’ ইউএসএস ত্রিপোলিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, সেটিতে রয়েছে প্রায় ২৫০০ মেরিন সেনা (নৌসেনা)। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলিকে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হতে দেখা গিয়েছে। এর পাশাপাশি দেখা গিয়েছে আরও দুই যুদ্ধ জাহাজকে। তবে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নাকি ত্রিপোলি পৌঁছে গিয়েছে নিজের গন্তব্যে। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ইউএসএস জেরার্ল্ড আর ফোর্ড এতদিন ওই অঞ্চলে থাকলেও এই জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের জেরে সেটিকে বর্তমানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে দাপট দেখাবে ত্রিপোলি।
ইরাক, আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য?
ইরাক, আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশে সেনা পাঠিয়ে স্থল অভিযানের বহু ইতিহাস রয়েছে আমেরিকার। কিন্তু ইরানে প্রবেশ করে অভিযান চালানো কি সহজ হবে আমেরিকার জন্য? উত্তর হল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ইরানে স্থল অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৩ সালে যখন ইরাকে সেনা পাঠিয়েছিল আমেরিকা তখন পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। দীর্ঘ যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল ইরাক। কোমড় ভেঙে গিয়েছিল সে দেশের সেনাবাহিনীর। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ইরান অনেক বড় দেশ, জনসংখ্যা বেশি এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামোও অনেক বেশি সংগঠিত এবং উন্নত। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ভিতর প্রবেশ করে হামলা চালালে বহু ‘ফ্রন্টে’ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইরানের পাশে দাঁড়াবে লেবাননের হেজবুল্লা এবং ইয়েমেনের হাউথি-র মতো সসস্ত্র সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে, এধরনে যুদ্ধ প্রচুর ব্যয়বহুল। খরচ হতে পারে শত শত বিলিয়ান ডলার। এর জেরে চাপ পড়তে পারে আমেরিকার অর্থনীতিতে। ফলে নিজ ভূমেই কোণঠাসা হতে পারেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়, এত বড় মাপের অভিযানের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে একযোগে আমেরিকার বিরুদ্ধে চলে আসবে সিংহভাগ দেশই।
