shono
Advertisement
Rodríguez Castro

কিউবার 'কাঁকড়া' চিন্তা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের, ইরান যুদ্ধের আবহে আমেরিকার উঠোনে ঘনাচ্ছে নতুন বিপদ!

প্রবল মার্কিন চাপের মাঝে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কূটনৈতিক দিশা দেখাতে পারেন রদ্রিগেজ কাস্ত্রো ওরফে এল কাংরিজো বা কাঁকড়া। ফিদেল কাস্ত্রোর এই বংশধরকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আমেরিকা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:40 PM Mar 27, 2026Updated: 07:43 PM Mar 27, 2026

ইরান যুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পর আমেরিকার টার্গেট কিউবা। এবার সেই কিউবাতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল গিলারমো রদ্রিগেজ কাস্ত্রো (Rodríguez Castro)। প্রথমবার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ ক্যানেলের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল তাঁকে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল মার্কিন চাপের মাঝে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবাকে কূটনৈতিক দিশা দেখাতে পারেন রদ্রিগেজ কাস্ত্রো ওরফে এল কাংরিজো বা কাঁকড়া। ফিদেল কাস্ত্রোর এই বংশধরকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আমেরিকা।

Advertisement

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকে কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। দীর্ঘ বছর ধরে কিউবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলা ছিল তাদের একমাত্র সহায়। এখান থেকে ভর্তুকিতে জ্বালানি তেল-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ হত কিউবাতে। সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতির শ্বাসরোধ হয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই কিউবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বাড়ছে রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর থেকে কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। দীর্ঘ বছর ধরে কিউবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলা ছিল তাদের একমাত্র সহায়।

শোনা যাচ্ছে, কিউবার সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছেন তিনি। যাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় তাদের উপর থেকে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কাস্ত্রোর। কিউবার বর্তমান সরকারকে এড়িয়েই কাস্ত্রোর সঙ্গে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। টালমাটাল পরিস্থিতিতে কিউবায় রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর ভূমিকা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, জ্বালানিসংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় কিউবার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট বাড়ছে, হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কমিয়ে আনা হয়েছে, খাদ্য ও জ্বালানির ঘাটতি তীব্র হয়েছে, পর্যটকরা আসছেন না দেশটিতে। এককথায় দেশটি মানবিক জরুরি অবস্থার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এই অবস্থায় মনে করা হচ্ছে, যে কোনওভাবে আমেরিকার সঙ্গে আপসে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন কাস্ত্রো। তবে আমেরিকা চায়, হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে পতন ঘটানো। সেখানে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর উত্থানে আমেরিকার উদ্দেশ্য কতখানি সফল হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্ধিহান ওয়াকিবহাল মহল। গোটা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য বুমেরাং হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কূটনৈতিক মহল। আবার অনেকেই মনে করছেন, দেশটির বর্তমান বেহাল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে গেলে আমেরিকার সঙ্গে আপসই একমাত্র পথ। ফলে অতীতের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে সেই পথেই হাঁটছেন ফিদেল কাস্ত্রোর বংশধর।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কাস্ত্রোর। কিউবার বর্তমান সরকারকে এড়িয়েই কাস্ত্রোর সঙ্গে এই আলোচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ৪১ বছর বয়সী রদ্রিগেজ কাস্ত্রো মূলত তাঁর ঠাকুরদা রাউল কাস্ত্রোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মা রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে দেবোরা কাস্ত্রো এসপিন। বাবা লুই আলবার্তো রদ্রিগেজ লোপেজ-সেলেজা ছিলেন সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী জিএইএসএর প্রধান। ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement