বারবার অবস্থান বদল। গোপন ডেরা থেকেই একের পর এক প্রত্যাঘাতের ছক। কিন্তু তবুও শেষ রক্ষা হল না। মঙ্গলবার তেল আভিভের ক্ষেপণাস্ত্রে মৃত্যু হয়েছে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর ‘ডান হাত’ তথা ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানির। সূত্রের খবর, মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়ি যাওয়াই কাল হয় লারজানির। ‘মৃত্যুবাণে’ বিদ্ধ হন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান।
এক ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খামেনইয়ের মৃত্যুর পর তেল আভিভের ‘হিট লিস্ট’-এর প্রথম স্থানেই ছিলেন লারজানি। তবে তাঁকে কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ, খামেনেই নিহত হওয়ার পর ইরানের শীর্ষ নেতাদের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। লারজানিও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। ইরানের নিরাপত্তা প্রধানকে রক্ষা করতে তাঁকে গোপন ঘাঁটিতে রাখা হয়। তবে বেশি দিন তিনি এক জায়গায় থাকতেন না। বারবার নিজের অবস্থান বদল করতেন লারজানি। যাতে তাঁকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। এমনকী অধিকাংশ সময় তিনি নাকি ছদ্মবেশেও থাকতেন বলে খবর।
কিন্তু গত মঙ্গলবার চালে সামান্য ভুল করে ফেলেন লারজানি। মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে তিনি বাইরে বেরোন। আর তখনই নেমে আসে সাক্ষাৎ যম। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লারজানিকে খুঁজে বের করতে ‘স্বর্গ মর্ত্য পাতাল’ এক করে ফেলেছিল ইজরায়েল এবং আমেরিকা। কিন্তু তাঁর হদিশ কিছুতেই মিলছিল না। এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার তেহরানের পারডিসে নিজের মেয়ের বাড়িতে যান লারিজানি। ঠিক তখনই সেই খবর চলে যায় ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হাতে। আর দেরি করেনি তারা। ‘মৃত্যুবাণে’ বিদ্ধ করেন লারজানিকে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের পাশাপাশি মৃত্যু হয় তাঁর পুত্র, দেহরক্ষী এবং ইরানের আরও এক কর্তার।
কিন্তু কীভাবে লারজানির খবর চলে গিয়েছিল মোসাদের হাতে? এখানেই উঠছে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব। ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ এক ইজরায়েলি কর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দাই লারজানির খবর পৌঁছে দিয়েছিল মোসাদের কানে। অর্থাৎ ‘সরষের মধ্যেই রয়েছে ভূত’। দেশের অন্দরে থেকে কারা চরবৃত্তির কাজ করছেন, সেটাই খুঁজে বের করা এখন ইরান প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
