আমেরিকা কিংবা ইজরায়েলের মতো সামিরক শক্তি না থাকতে পারে, কিন্তু কৌশলে কম যায় না ইরান। কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সে কথা বুঝিয়ে দিল তারা। ইরানের হামলায় ওই ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত হতাহতের খবর নেই। এদিকে কাতারে গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরে নতুন করে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, কাতারে ফের হামলা চালালে 'কঠোর পদক্ষেপ' করবে আমেরিকা।
কাতারের রাস লাফরান শিল্পতালুকে থাকা এই জ্বালানির ভাণ্ডারটি থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হয়। এখানে হামলা চালানোর উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট বাড়ানো। সে দেশের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরান পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তার মধ্যে চারটিকে প্রতিহত করা হয়। একটি আছড়ে পড়ে গ্যাসের ঘাঁটিতে। এই হামলার নিন্দা করে কাতার বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে, সমস্ত ধরনের লক্ষ্মণরেখা পেরিয়ে গিয়েছে ইরান। ইচ্ছাকৃত সাধারণ নাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জায়গায় হামলা চালাচ্ছে।
বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস উত্তোলন কেন্দ্র সাউথ পার্সে হামলা চালায় ইজরায়েল। মনে করা হচ্ছে, এর বদলা নিতে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইজরায়েল এই হামলার বিষয়ে তিনি জানতেন না। এই সামরিক অভিযানে আমেরিকা বা কাতারের কোনও হাত নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত আক্রোশে এই কাজ করেছে ইজরায়েল, দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। উল্লেখ্য,বুধবার ইজরায়েলের হামলার পরেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল--- এবার তারা পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল এবং গ্যাস উত্তোলনকেন্দ্রগুলিকে নিশানা করে হামলা চালাবে।
সমর বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ক্রমশ গোটা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। একে একে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ভাণ্ডারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভেঙে পড়বে গোটা বিশ্বের পরিবহন ব্যবস্থা। বিশ্বজুড়ে তৈরি হবে আর্থিক সংকট। ফলে দ্রুত যুদ্ধবিরতি ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
