প্রয়াত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ায় ভারতকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ভারতের দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, দিল্লির এই পদক্ষেপ 'পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ'। তেহরানের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের অংশগ্রহণ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।
আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিনের সেই ঘটনার ১২৬ দিন পর তেহরানে তাঁর অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছে ইরান। শুক্রবার তেহরানে পৌঁছে প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানান ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা, বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইন-সহ ভারতীয় প্রতিনিধি দল।
এক্স হ্যান্ডেলে ভারতকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ইরানের তরফে বলা হয়েছে, "বন্ধুত্ব, সহানুভূতি ও আন্তরিক শ্রদ্ধার এই নিদর্শন কখনই ভুলবে না।" দীর্ঘ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের শহিদ নেতা মহামান্য আয়াতুল্লাহ সাইয়দ আলি খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে উপস্থিত সরকারি প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।"
উল্লেখ করা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী এবং ভারতের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের "সম্মাননীয় উপস্থিতি" আমাদের দুই দেশের "গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক বন্ধন"-এর প্রতিফলন। দীর্ঘ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের জনগণের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সংহতির এক শক্তিশালী অভিব্যক্তি। ইরানের জনগণ বন্ধুত্ব, সহানুভূতি এবং আন্তরিক শ্রদ্ধার এই নিদর্শন কখনও ভুলবে না। তারা এটিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং ভারত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্কের এক মূল্যবান নিদর্শন বলে মনে করে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার এক মূল্যবান ভিত্তি।"
