ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ। নতুন করে আফগানিস্তানের মাটিতে ভয়ংকর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল পাকিস্তান। পাক সেনার দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার আফগানিস্তানের ২২টি জায়গায় এই হামলা চালানো হয়েছে। যার জেরে ২৭৪ জন তালিবান সেনার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের পালটা জবাবে ১২ জন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। যদিও তালিবানের দাবি, সংখ্যাটা ১২ নয়, ৫৫ জন।
পাক সেনার মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ওদের ২৭৪ জন যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পাক সেনার ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তালিবানকে জানাতে চাই, তাদের দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। হয় তালিবান টিটিপি, বিএলএ, দায়েশ এবং আল-কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে থাকবে নাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ওদের ২৭৪ জন যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পাক সেনার ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে আফগান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত রবিবার পকিস্তানি হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ করেছে আফগানিস্তান ফৌজ। পাকিস্তানের অন্তত ১২টি পোস্ট আফগানিস্তানের দখলে এসেছে বলেও দাবি তালিবান প্রশাসনের। মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা জওয়ান। সেই হামলার পালটা শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। পাক সেনার দাবি, আফগানিস্তানের তরফে অ্যাবোটাবাদে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি।
পাকিস্তানের মতে, কান্দাহারের উপর দিয়ে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলি ক্রমাগত টহল দিচ্ছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ঘোষণা করেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এবার সরাসরি যুদ্ধ হবে। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের মতে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, দক্ষিণে কান্দাহার এবং দক্ষিণ-পূর্বে পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে এসে চালানো হামলার জবাবে এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই আবার তালিবান নিজেদের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’কে সক্রিয় করেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
