মধ্যপ্রাচ্যে জোরাল হল শান্তির হাওয়া। যুদ্ধ থামিয়ে ইরান ও আমেরিকার প্রাথমিক মউ স্বাক্ষর হয়েছে সম্প্রতি। এবার সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটল ইজরায়েল এবং লেবাননও। জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকেই যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে দুপক্ষ। যদিও শুক্রবার সকালেই দক্ষিণ লেবাননের একাধিক ঠিকানায় হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার কয়েকঘণ্টা পরেই দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির খবর জানা গেল।
এক মার্কিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটে থেকে শুরু হবে সংঘর্ষবিরতি। কতদিন পর্যন্ত এই সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ, সেই নিয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতায়, ইরানের সাহায্যে এই সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্তা। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে দু'পক্ষে গুলির লড়াই হয়েছে বটে। কিন্তু তারপর ইজরায়েল এবং হেজবোল্লা সংঘর্ষবিরতিতে রাজি।
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তি ফেরাতে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত এলাকা থেকে সামরিক কার্যকলাপ একেবারে বন্ধ করতে হবে। ইজরায়েল-হেজবোল্লার যুদ্ধবিরতিও এই শান্তিচুক্তির জন্য আবশ্যিক। সূত্রের খবর, মউ সই করার পরেই ইরানের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় হেজবোল্লার সঙ্গে। তেহরান জানিয়ে দেয়, ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি না হলে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডে আলোচনায় বসার কথা ছিল ইরান ও আমেরিকার। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়ে দেন, এই বৈঠক বাতিল। অনুমান করা হয়, ইজরায়েল-হেজবোল্লা সংঘাতের জেরেই এই পদক্ষেপ। জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি আপাতত সুইৎজারল্যান্ডে যাচ্ছেন না। তবে ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা জারি থাকবে। দিনক্ষণ ঠিক করে শীঘ্রই আলোচনায় বসবে দুই দেশ। এদিন সংঘর্ষবিরতির ফলে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ল অনেকটাই।
