ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত হলে তুরস্কের সঙ্গে ইজরায়েল সঙ্গে বেশ তিক্ত। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এর্ডোগান। এরই পালটা এবার তুরস্কের বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করল তেল আভিভ। তুরস্কের প্রধান শত্রু গ্রিসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল ইজরায়েল (Greece Israel Defense Deal)। সম্পন্ন হল বিরাট প্রতিরক্ষা চুক্তি। লক্ষ্য স্পষ্ট, প্রয়োজন পড়লে গ্রিসের মাধ্যমে তুরস্ক বধ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গত সোমবার ইজরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে বড় এক প্রতিরক্ষাচুক্তি সম্পন্ন হয়। যে চুক্তির মাধ্যমে নেতানিয়াহুর দেশ গ্রিসের জন্য তৈরি করবে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ৩.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩৩ হাজার ২৩১ কোটি টাকার এই চুক্তি নিয়ে মুখ খুলেছে নেতানিয়াহু সরকার। বলা হয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কর্মসূচির অন্তর্গত এই পদক্ষেপ ইজরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ভবিষ্যতে গ্রিসকে অস্ত্রে সাজাতে ইজরায়েল যে কোনও কার্পণ্য করবে না সে ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের প্রধান শত্রু গ্রিসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল ইজরায়েল। সম্পন্ন হল বিরাট প্রতিরক্ষা চুক্তি। লক্ষ্য স্পষ্ট, প্রয়োজন পড়লে গ্রিসের মাধ্যমে তুরস্ক বধ।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল এর্দোগান সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ, বেআইনি ভাবে স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করেছেন। এর পাশাপাশি আরও একাধিক অভিযোগ তুলে ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিস জারির আর্জি জানানো হয়। এর ঠিক পর গ্রিসের সঙ্গে ইজরায়েলের এই সামরিক চুক্তি নিছক কাকতালীয় বলে মনে করছে না ওয়াকিবহাল মহল।
কূটনৈতিক মহলের মতে, শত্রু বেষ্টিত ইজরায়েলের একেবারে প্রথম সারিতে না থাকলেও এর্দোগানের তুরস্ক সেই তালিকার বাইরে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে ন্যাটোর ধাঁচে গঠন করেছে 'মুসলিম ন্যাটো'। যার পোশাকি নাম মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। যার লক্ষ্য হল কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকিরা সেই হামলাকে নিজের উপরে হামলা বলে গণ্য করবে। মুসলিম ন্যাটোর শত্রু তালিকায় আবার রয়েছে ইজরায়েলের নাম। এই অবস্থায় কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতেই গ্রিসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল ইজরায়েল। কারণ গ্রিস তুরস্কের ঘোষিত শত্রু। অতীতে বহুবার যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই দেশ। সাইপ্রাস দ্বীপের একাংশ তুরস্ক সেনা দীর্ঘ দিন ধরে বেআইনি ভাবে দখলে রেখেছে বলেও গ্রিসের অভিযোগ।
