গুণ যাই থাক রূপচর্চায় খামতি নেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধে মেতে থাকা ইজরায়েলে প্রধানমন্ত্রীর চুল ও মেকআপের পিছনে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রূপচর্চায় খরচের বহর দেখে ইজরায়েল তো বটেই তাজ্জব গোটা বিশ্ব।
তথ্য জানার অধিকার আইনে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচের হিসেব চেয়েছিলেন ইজরায়েলের আইনজীবী ইয়ারা উইঙ্কলার। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীদের চুল ও মেকআপ বাবদ খরচ হয়েছে ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৪.৪৯ কোটি টাকা। বিরাট এই খরচের ৯০ শতাংশই খরচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। এই ৭ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ সময় প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন নেতানিয়াহুই।
তথ্য জানার অধিকার আইনে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচের হিসেব চেয়েছিলেন ইজরায়েলের আইনজীবী ইয়ারা উইঙ্কলার।
২০২২ সালে যিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ। তাঁদের খরচ পড়েছিল ৮৪ হাজার শেকেল অর্থাৎ ২৬.৩৪ লক্ষ কোটি। ২০২৩ সালে নেতানিয়াহু ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে হয় ৩ লক্ষ ১১ হাজার শেকেল বা ৯৭.৫২ লক্ষ টাকা। এই বছরেই মেকআপ বাবদ নেতানিয়াহু খরচ করেন ৯৮.৩৮ লক্ষ টাকা। ২০২৫ সালে এই ব্যয় রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলে। মেকআপ খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১.০৬ কোটি টাকা। রিপোর্ট বলছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে অর্থাৎ গাজা যুদ্ধ শুরু সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে নেতানিয়াহুর চুলের পিছনে খরচ পড়ে ২.৪৮ লক্ষ টাকা এবং মেকআপ খরচ ছিল ১.৫১ লক্ষ টাকা। অক্টোবর অর্থাৎ যুদ্ধের মাসেই এই খাতে তাঁর খরচ হয় ৭৭ হাজার টাকা।
রিপোর্টে আরও জানা যাচ্ছে, বিদেশ ভ্রমণের সময় একলাফে অনেকখানি বেড়েছে নেতানিয়াহুর মেকআপ খরচ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি তাঁর চারদিনের আমেরিকা সফরে চুল ও মেকআপে খরচ হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ ডলার অর্থাৎ ১২.৯ লক্ষ টাকা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর আমেরিকা সফরে এই খাতে খরচ পড়েছিল ১১,৫০০ ডলার অর্থাৎ ১০.৯৯ লক্ষ টাকা। চুল ও মেকআপের বাইরে পোশাক ও আতিথেয়তার খরচও কম নয় নেতানিয়াহুর। এই খাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর খরচ পড়েছে ১.২৮ কোটি টাকা। অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর চুল ও রূপচর্চার শিল্পীদের নাম প্রকাশ করেনি ইজরায়েল সরকার।
