ফের বিশ্বমঞ্চে বেআব্রু পাকিস্তানের 'ধরি মাছ না ছুঁই পানী' কূটনীতি। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবে হামলা হলে সামরিক সাহায্য দেওয়ার কথা ইসলামবাদের। যদিও সাম্প্রতিক হাউথি হামলার পরে পাকিস্তানের টিকি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে 'ড্যামেজ কন্ট্রোলে' বুধবার সৌদির সাধারণ নাগরিক ও পরিকাঠামোর উপর হাউথি-হামলার নিন্দা করলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অঙ্গিকারবদ্ধ হয়, কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে বাকিদের উপরেও হামলা বিবেচনা করা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেন, সৌদি আরবের উপর হাউথি হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পাকিস্তান। যদিও বাস্তবে হাউথি হামলার পর ইসলামাবাদ বিবৃতি দেয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ এই নয় যে হাউথিদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানকে সামরিক পদক্ষেপ করতে হবে।
ধুন্ধমার যুদ্ধ চলছে ইরান সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে।
খারাপ সময়ে পাকিস্তানের এই বিবৃতিকে ভালোভাবে নেয়নি সৌদি। বিষয়টি আন্দাজ করেই 'ড্যামেজ কন্ট্রোলে' মাঠে নামলেন শাহবাজ। সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পাকিস্তানের "পূর্ণ সংহতি" প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাউথি হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বিষয়টি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহকে আরও ব্যাহত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিশ্বের অন্যতম আর্থিক শক্তি সৌদির থেকে জ্বালানি-সহ হাজার রকম সুবিধা নেয় পাকিস্তান। নিজেদের দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতির স্বার্থেই মক্কা চুক্তি করেছিল তারা। কিন্তু যখন 'বন্ধু'র পাশে দাঁড়ানোর কথা, স্বভাব অনুযায়ী সেই সময় লেজ গুঁটিয়ে পালাচ্ছে তারা।
সম্প্রতি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হাউথি বাহিনী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। হাউথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ‘মোখা’ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিকটবর্তী একটি দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এর ফল ভুগতে হবে পাকিস্তানকেও।
