shono
Advertisement
Pakistan

ভারত সীমান্তে ২৫০ চিনা হাউইৎজার মোতায়েন পাকিস্তানের, কোন ষড়যন্ত্রের ছক ইসলামাবাদের?

এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার চিনের তৈরি কামান। এটি সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার দূরের বস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মনে করা হচ্ছে, অপারেশন সিঁদুরে ধাক্কা খেয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে পাকিস্তান।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:48 PM Aug 03, 2026Updated: 02:55 PM Aug 03, 2026

লাদাখ-অরুণাচল সীমান্তে সম্প্রতি ১২টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চিন! ক'দিন আগে উপগ্রহ চিত্র মারফত প্রকাশ্যে এসেছে বিষয়টি। এবার আরেক 'শত্রু' পাকিস্তান ভারত-সীমান্তে সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটল। মোট ২৫০টি এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার কামান মোতায়েন করেছে তারা। ভারত-লাগোয়া পূর্ব সীমান্তের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধাপে ধাপে ১৫৫ মিমি আর্টিলারি সিস্টেম মোতায়েন করা হচ্ছে বলে খবর। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন সেক্টরে এই মোতায়েন চলছে। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ ভারতকে তাক করে আড়াইশো শক্তিশালী কামান মোতায়েন কেন? নতুন কোনও ষড়যন্ত্র?

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপারেশন সিঁদুরে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারতীয় সেনার কাছে কার্যত নাস্তানাবুদ হয়েছে ইসলামাবাদ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক পাক সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারতের ফৌজ। এর ফলে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওই সেনাঘাঁটিগুলি। অতএব, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। কৌশলগত ভাবেই দিল্লিকে চাপে রাখতে ভারত-সীমান্তে ২৫০টি এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার কামান মোতায়েন করেছে তারা।

এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেলড হাউইৎজার চিনের তৈরি কামান। ছয় চাকার সাঁজোয়া শানসি ট্রাকের উপর এই কামানটি বসানো হয়েছে। ফলে এটি খুব দ্রুত (সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতি) এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। সাধারণ গোলাবারুদ ব্যবহার করে এটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে বিশেষ রকেট-সহায়ক ভি-ল্যাপ প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যেও হামলা চালানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়। প্রয়োজনে প্রতি মিনিটে ছয় রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক কামানটি।

এদিকে ৯ জুলাইয়ের একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, পিপলস লিবারেশন আর্মির বিমান বাহিনী জিনজিয়াংয়ের হোটান বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করেছে ৮টি জে-২০। সেনা ছাড়াও হোটান বিমানবন্দরটি অসামরিক উড়ানের জন্যও ব্যবহার করা হয়। চিনের এই বিমানঘাঁটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডিতে অবস্থিত ভারতীয় বিমান ঘাঁটির থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার এবং লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, ২৫ জুনের একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, তিব্বতের ডামসুং বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে আরও ৪টি জে-২০। দামসুং অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে দু’টি স্থানে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ১২টি জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। উল্লেখ্য, ভারতের বিরুদ্ধে চিনের কোনও বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ মোতায়েনের ঘটনা এই প্রথম। প্রশ্ন উঠছে, একইসঙ্গে দুই 'শত্রু' দেশের ভারতকে তাক করে অস্ত্র মোতায়েন ঘটনা কি দিল্লিকে চাপের ফেলার যৌথকৌশল?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement