ঘরে আরশোলা দেখলেই বিড়ম্বনায় পড়ে যান অধিকাংশ মানুষ। অনাহূত অতিথির আনাগোনা এবং ডানা ঝাপটানিতে বিরক্ত হন প্রত্যকেই। কিন্তু আরশোলার সঙ্গে বন্ধুত্ব! এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে এই বিরল কাজটিই করে দেখিয়েছেন খোদ জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ‘বন্ধু’ চলে যাওয়ায় এখন একাকিত্বে ভুগছেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছে? আসলে অতীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল সরকারি বাসভবনটিতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেখান থেকেই একটি প্রচলিত গুজব রয়েছে। বলা হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল সরকারি বাসভবনটি ‘ভূতের বাসা’। ১৯২৯ সালে নির্মিত এই ভবনটিতে তাকাইচি গত ডিসেম্বরে ওঠেন। এটি আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হত। তবে পরবর্তীতে ভবনটির ঠিক পাশেই নতুন কার্যালয় নির্মিত হয়েছে। অনেকেই জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, বাসভবনে তিনি কোনও ভূতের দেখা পেয়েছেন কি না? তারই জবাবে তাকাইচি একটি মজার তথ্য ফাঁস করেন। জানান, সেখানে তিনি ভূতের দেখা পাননি, কিন্তু একটি আরশোলাকে নিয়মিত বাসভবনে ঘোরাঘুরি করতে দেখতেন। প্রথমবার সেই অনাহূত অতিথিকে দেখে তিনি চমকে উঠেছিলেন।
তবে অস্বস্তিতে পড়লেও তাকাইচি আরশোলাটিকে হত্যা করেননি। তিনি জানান, ওসামু তেজুকার বিখ্যাত মাঙ্গা ‘ফিনিক্স’-এ বর্ণিত পুনর্জন্মের ধারণা দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাই আরশোলা বা অন্য কোনও পোকামাকড়কে হত্যার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। তাকাইচি বলেন, "সরকারি বাসভবনের ভিতর ছুটে যাওয়া আরশোলাটিকে দেখে আমার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনটাও সেই দীর্ঘ জন্মান্তরচক্রেরই একটি অংশ। আমি ভেবেছিলাম আরশোলাটি নিজে থেকেই চলে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।" প্রধানমন্ত্রী জানান, যখন আরশোলা উপদ্রবের বিষয়টি তিনি তাঁর সচিবদের জানান, তখন তাঁরাও রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে তাঁরা আরশোলাটিকে সরিয়ে দেন এবং বাসভবনে কীটনাশকও প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু তাকাইচি বলেন, "আমি স্বস্তি পেয়েছিলাম, তবে কিছুটা এককিত্ব ও বিষণ্ণও হয়েছিলাম।"
