যুদ্ধবিরতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে শুক্রবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শান্তি বৈঠক নিয়ে যে তিনি আশাবাদী, সে কথাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু তা-ও রওনা দেওয়ার আগে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভ্যান্স।
এদিন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য আগ্রহী এবং আশাবাদী। ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে বৈঠকে বসে, তাহলে আমরা অবশ্যই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যদি তারা আমাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করে, তাহলে পরিণতি ভালো হবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বেশ কিছু স্পষ্ট নির্দেশিকা দিয়েছেন। আমরা তা মেনে চলব। এরপর দেখা যাক কী হয়!” প্রতিনিধি দলে ভ্যান্স ছাড়াও স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের মতো মার্কিন সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যাচ্ছে, ইরানের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে থাকবেন সে দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। এখন দেখার, এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আদৌ কোনও স্থায়ী রফাসূত্র মেলে কি না।
এদিকে ইরান-আমেরিকা বৈঠকের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ইসলামাবাদকে। মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ এবং জওয়ান। শুধু তা-ই নয়, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ এবং বাজার। জানা গিয়েছে, ‘রেড জোন’ এলাকাগুলিতে অর্থাৎ যেখানে রয়েছে সংসদ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়, বিলাসবহুল হোটেল এবং দূতাবাস সেখানে বেসরকারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দু’দেশের প্রতিনিধিরা যাতে নির্বিঘ্ন যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। গোটা শহরের যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণাও করা হয়েছে।
