ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতীয় সেনাকে বিপদে ফেলতে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তা বাস্তবায়িত হলে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে মৃত্যু হত বহু ভারতীয় যোদ্ধার। তবে শেষ মুহূর্তে সেই প্রস্তাব বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভ্যান্সকে তিনি জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রস্তাবে রাজি হবেন না। মার্কিন কূটনীতি নিয়ে সদ্য প্রকাশিত এক বই থেকেই প্রকাশ্যে এসেছে এই তথ্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতীয় সেনাকে শান্তিদূত করে পাঠানোর প্রস্তাব পেশ করেছিলেন জেডি ভ্যান্স (JD Vance)।
গত ২৩ জুন 'রিজিম চেঞ্জ' নামক একটি বই প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকায়। সেখানে ওভাল অফিসের এক গোপন বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার মাত্র ১০ দিন পর ওভাল অফিসে এই হাই লেবেল বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রস্তাব দেন ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নজরদারি চালাতে ভারত ও সৌদি আরবের সেনাকে শান্তিদূত হিসেবে পাঠানো হোক। তবে সেই প্রস্তাবকে খারিজ করেন ট্রাম্প। বইতে দাবি করা হয়েছে, 'ট্রাম্প এই প্রস্তাব শোনার পর বলেন, এই প্রস্তাবে ভারত রাজি হবে না। এতবড় ক্ষতি ওরা কোনওভাবে স্বীকার করবে না।'
বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রস্তাব দেন ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নজরদারি চালাতে ভারত ও সৌদি আরবের সেনাকে শান্তিদূত হিসেবে পাঠানো হোক।
ওই বইয়ের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকে মোদি স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের বয়ান অনুযায়ী, 'প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে পছন্দ করেন এবং তিনি আমেরিকা সফরে আসতে চান। ফলে এই ধরনের কোনও প্রস্তাবে ভারত কোনওভাবেই রাজি হবে না।' বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, ব্রিটেন বা ফ্রান্স যদি সেখানে সেনা পাঠাতে চায়, তবে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু শর্ত হল, এক্ষেত্রে তারা আমেরিকার ওপর কোনও আর্থিক বা সামরিক বোঝা চাপাবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এই বৈঠক ডেকেছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলগ। রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি চুক্তির এক বিস্তারিত খসড়া পেশ হয় সেদিন। যেখানে পরিকল্পনা ছিল, আমেরিকা ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেবে না, ইউক্রেনও তা পুনর্দখলের চেষ্টা করবে না। যুদ্ধ এড়াতে ওই প্রস্তাবে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে স্থলবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়। তবে ভ্যান্স এর বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইউক্রেনে ন্যাটো সৈন্য মোতায়েন রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে উস্কানি হবে। যা পরে আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। এই অবস্থায় ভারত থেকে সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দেন ভ্যান্স। তা অবশ্য খারিজ করেন ট্রাম্প।
