যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে সেখানে এবার প্রকৃতিও রুষ্ট! কেঁপে উঠল মাটি। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.৩। কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা না গেলেও আচমকাই এমন কম্পনে আরও বাড়ল আতঙ্ক। সেই সঙ্গে গুঞ্জন, সত্যিই প্রকৃতির রোষ... নাকি মার্কিন 'সিসমিক বম্ব'? পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও বাদ যাচ্ছে না। যা পরিস্থিতি, তাতে বিরোধীপক্ষের চক্রান্তের দিকটিকে সত্যিই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু সবে মাত্র বিস্ফোরণের কথা জানা গিয়েছে, তাই নানা শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে প্রাথমিক ভাবে।
জানা গিয়েথে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। যদিও ইরানের ওই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ, তাই এখানে এমন কম্পন কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতই বিপজ্জনক, নানা গুঞ্জন ভাসছে। ওযাকিবহাল মহলের একাংশের মতে, হতেই পারে মাটির নিচে আঘাত করতে সক্ষম মার্কিন 'ভূমিকম্প বোমা' আছড়ে পড়েছে। কারও মতে, ভূগর্ভস্থ সামরিক কাঠামোতে আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। আর এর পরই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা শুরু করে তেহরান। দুপুরের পর দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবিবারও হামলা থামেনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার ইরানকে সতর্ক করেছে আমিরশাহী। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুঁশে ফিরুন। আপনার যুদ্ধ সম্পূর্ণ আপনার। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়।
এদিকে ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। সোমবার এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ফের দিল্লির অবস্থায় স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তিনি বলেন, “ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ায় আগ্রহী। দ্বন্দ্বের চেয়ে শান্তির শক্তি বেশি।” পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
