ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে কার্যত দুরমুশ হয়েছে ইরান। মৃত্যু হয়েছে দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই। ইরানের প্রত্যাঘাতে জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর জল্পনা শুরু হয়েছে, ইরানকে শিক্ষা দিতে ভয়ংকর এয়ার স্ট্রাইকের পর এবার সেখানে পদাতিক সেনা নামাচ্ছে আমেরিকা। সম্প্রতি এই ইস্যুতে মুখ খুললেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জল্পনা জিইয়ে রেখে ট্রাম্প জানালেন, 'হয়ত তার প্রয়োজন পড়বে না।' তবে একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন যদি প্রয়োজন বোধ হয় ইরানে পদাতিক সেনা পাঠাতেও দ্বিধা করবে না ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার পর ভয়ংকর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হামলার পালটা জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, সেটা সকলে দেখবে। এদিকে রিপোর্ট বলছে, সোমবার পর্যন্ত ইরানের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন মার্কিন সেনার। ট্রাম্পের এই দাবি তাঁর আগের মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। হামলা শুরুর পর, সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমার মনে হয় না ইরানে পদাতিক সেনা পাঠানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে যদি প্রয়োজন পড়ে সেনা পাঠাতে যে আমেরিকা দ্বিধা করবে না সেটাও স্পষ্ট করে দেন ট্রাম্প। বলেন, "সব প্রেসিডেন্টই বলেন, সরাসরি সেনা নামানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি তা কখনই বলি না। আমি বলি, হয়ত প্রয়োজন নেই, অথবা যদি প্রয়োজন পড়ে।"
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সৌদি আরবের এক্স হ্যান্ডেলে বলা হয়, রিয়াধের মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আছড়ে পড়েছে। জ্বলতে থাকা দূতাবাসের একটি ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সৌদি প্রশাসন সূত্রে খবর, মার্কিন দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্থ হলেও হতাহতের খবর নেই। কারণ ভোরবেলায় কর্মী বা অন্য কেউ দূতাবাসে ছিলেন না। তাই কারোর মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবর মেলেনি।
রিয়াধের দূতাবাসের খবর পেয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন ট্রাম্প। ইরানের নাম না করে তাঁর হুঙ্কার, “এই হামলার যোগ্য জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। কীভাবে জবাব দেব সেটা এবার দেখবে সবাই।” ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরই জল্পনা শুরু হয়েছে এবার হয়ত ইরানে নামতে চলেছে সামরিক বাহিনী।
