দেখতে বসেছিলেন নীল ছবি। আচমকাই চমকে উঠলেন যুবক! এ কী! স্ক্রিনে যে তাঁর ও তাঁর প্রেমিকার যৌনতাবিলাস ফুটে রয়েছে। এমনই এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন এক চিনা যুবক। পরে তিনি তাঁর প্রেমিকাকেও দেখান সেই ভিডিও। চমকে উঠে যুগল আবিষ্কার করেন, এক হোটেলের ঘরে ঢুকে তাঁরা যৌনতা করেছিলেন। সেই মুহূর্তটিই গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করে তুলে দেওয়া হয়েছে পর্ন ওয়েবসাইটে।
ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওই যুগল ঘরে প্রবেশ করছেন এবং তাঁদের ব্যাগ রেখে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে লিপ্ত হচ্ছেন। হোটেলের ঘরের ভেতরে থাকা একটি গোপন ক্যামেরায় তাঁদের অজান্তেই সবটা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবং অনুমতি ছাড়াই তা আপলোড করা হয়েছিল। দ্রুত অনলাইনে হাজার হাজার দর্শকের কাছে তা পৌঁছেও যায়। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন ওই যুবক ও তাঁর বান্ধবী। এমনকী বাইরে বেরোলে বেশির ভাগ সময়ই টুপিতে মুখ ঢেকে রাখছেন। সব সময় এই ভেবে ত্রস্ত হচ্ছেন, যদি তাঁদের কোনও আত্মীয়-বন্ধুর চোখে পড়ে যায় ভিডিওটি!
ঘটনা ২০২৩ সালের। সম্প্রতি বিবিসি সূত্রে ঘটনাটির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। ওই যুবক বিবিসিকে জানিয়েছেন, এখন আর তিনি পর্ন ওয়েবসাইটে ঢুকতে পছন্দ করেন না। ভয় থাকে, তাঁদের ভিডিওটি ফের ফুটে উঠতে পারে। তাছাড়া অন্যান্য হিডেন ক্যামেরা পর্ন দেখলও বুঝতে পারেন, সত্যিই ছবির যুগলকে না জানিয়েই তা শ্যুট করা হয়েছে। হংকংয়ের বাসিন্দা এরিক (নাম পরিবর্তিত) এও জানাচ্ছেন, ঘটনার পর দীর্ঘদিন তিনি ও তাঁর বান্ধবী কথা বলেননি। এবং কেউই কোনও হোটেলে ওঠেননি এরপর থেকে।
চিনে গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্পাইক্যাম পর্ন নিষিদ্ধ। এমন ভিডিও শ্যুট করা ও শেয়ার করা দু'টোই কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাধারণত হোটেলের ঘরেই এই ধরনের ক্যামেরা লুকিয়ে রেখে তুলে নেওয়া হয় গোপন মুহূর্তের ভিডিও। বিবিসির তদন্ত বলছে, সম্প্রতি চিনজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন হোটেল থেকে মোট ১৮০টিরও বেশি গোপন ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে।
