সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মৌলবাদের দেশ পাকিস্তানে চরমে সংখ্যালঘু নির্যাতন। ১৫ বছরের মূক-বধির নাবালিকাকে অপহরণের পর জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে বিয়ে দেওয়া হল এক প্রৌঢ়ের সঙ্গে। অপহরণের ৯ দিন পর সামনে এল গোটা ঘটনা। নির্যাতিতার বাবা-মা থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে।
পাকিস্তানে হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন দরবার ইত্তেহাদ পাকিস্তানের প্রধান শিব কাচ্ছি বলেন, ''৯ দিন আগে ওই মূক-বধির নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্মান্ধরা। ঘটনার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করে মেয়েটির পরিবার। তবে পুলিশের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।'' অপহরণের ৯ দিন পর গত শনিবার ওই নাবালিকাকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তার মুসলিম স্বামী। মেয়েটির ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রমাণপত্র দেখিয়ে দাবি করেন মেয়েটি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করেছে।
তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির দাবি মানতে নারাজ মেয়েটির পরিবার। মেয়েটির বাবা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে মূক-বধির নাবালিকা একজন মাদক পাচারকারী ও ৭ মেয়ের বাবাকে বিয়ে করতে রাজি হতে পারে? শিব কাচ্ছি বলেন, "আমরা আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি মেয়েটিকে স্বেচ্ছায় এই পদক্ষেপ নেয়নি। তাকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়েছে।" কাচ্ছি আরও বলেন, "এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে আমরা ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তাদের কাছে চিঠি লিখেছি।"
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এই ঘটনা প্রথমবার নয়। প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নির্যাতনের জেরে হিন্দুদের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে। জোর করে হিন্দুদের জমি দখল, খুনের পাশাপাশি মৌলবাদীদের নির্দেশে অল্প বয়সি মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর তার ধর্ম বদলে বিয়ে দেওয়া হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে। অভিযোগ, এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনও সুরাহা হয় না।
