ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ায়। জারি হয়েছে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্বও। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফর নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। অনেকের মত, মোদির এই সফর আদতে ভারসাম্যের সফর। পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লির সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে, তা এই সফর থেকেই নির্ধারিত হবে। সে দিক দিয়ে কার্যত সরু সুতোয় পা ফেলে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি। কারণ, একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে মসৃণ সম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে মোদি সরকারকে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতায় অন্য দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক যাতে খারাপ না হয়, তা-ও মাথায় রাখতে হবে নয়াদিল্লিকে।
বুধবার দু'দিনের সফরে তেল আভিভে পৌঁছেছেন মোদি। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বয়ং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিমান থেকে নামার পর মোদিকে জড়িয়ে ধরেই স্বাগত জানান তিনি। সরকারি সূত্রে খবর, তেল আভিভে একটি বৈঠক করবেন মোদি-নেতানিয়াহু। তার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন জেরুজালেমের উদ্দেশে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দু’দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস বিরোধিতার সমন্বয় জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সম্প্রতিক পরিস্থিতিও উঠে আসবে আলোচনায়। সে দেশের সংসদে বক্তৃতাও দেওয়ার কথা মোদির।
মোদির এই ইজরায়েল সফর নানা দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়াকে চারপাশে বাঁধতে চাইছেন ইজরায়েল। আর এই প্রচেষ্টায় তারা পাশে চায় ভারতকে। সে কথা প্রকাশ্যে ব্যক্তও করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, ইজরায়েল যে জোট গড়তে চাইছে, তার পোশাকি নাম ‘ষড়ভুজ’। নেতানিয়াহু চান, পশ্চিম এশিয়া এবং তার আশপাশে এমন ‘শক্তি’ গড়ে তুলতে, যা চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে জবাব দিতে পারবে। অনেকের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক যে ‘ইসলামিক নেটোর’ কথা ভাবছে, তার পালটা জোট চাইছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। যদিও ভারতের তরফে এই জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, ইজরায়েলের সঙ্গে সামরিক জোটে গেলে ভারত যে উপকৃত হবে, এ নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। গত বছর পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে যে সামরিক চুক্তি হয়েছে, তার নিরিখে এই জোট ভারতের জন্য জরুরিও বটে। কিন্তু সেই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে। পাশাপাশি ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কে যাতে অবনতি না হয়, সে ব্যাপারেও সাবধান হতে হবে মোদি সরকারকে।
