মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, কোম শহরের এক গোপন হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবার সেই রিপোর্ট খারিজ করে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে দাবি করা হয়েছে, হামলার জেরে মোজতবার মুখ ক্ষতবিক্ষত। পায়ের চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে তাঁর এক পা বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এসব ধাক্কা সামলে ক্রমশ সেরে উঠছেন মোজতবা।
মোজতবার ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি তুলে ধরে সংবাদ সংস্থা রয়টর্স দাবি করেছে, মোজতবা এখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে সক্রিয়। শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করছেন। শুধু তাই নয়, ইসলামাবাদে হতে চলা শান্তি আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাঁকে সাহসী নেতা হিসেবে সম্বোধন করেছে। পাশাপাশি এক মার্কিন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা নিজের এক পা খুইয়েছেন। চেহারাতেও গভীর ক্ষতচিহ্ন। যার জেরেই ৪ মার্চ তাঁকে দেশের নয়া সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। তাঁর কোনও ছবি বা ভিডিও আধিকারিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার জেরে মোজতবার মুখ ক্ষতবিক্ষত। পায়ের চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে তাঁর এক পা বাদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে এসব ধাক্কা সামলে ক্রমশ সেরে উঠছেন মোজতবা।
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের তরফে উপসাগরীয় দেশগুলিকে খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল। যেখানে দাবি করা হয়, মোজতবার (Mojtaba Khamenei) শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। যুদ্ধ বিষয়ক কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই তিনি। পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় থাকার ফলে কোনও রকম নির্দেশ দিতে তিনি অক্ষম। পরিস্থিতি যে পথে এগোচ্ছে তাতে মোজতবার মৃত্যু শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করা হয়েছে ওই মেমোতে। তবে শত্রুপক্ষের সেই দাবি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ইরান। তাদের দাবি ছিল, যুদ্ধে এঁটে উঠতে না পেরে এখন ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরু করেছে শত্রুপক্ষে। এটা তারই একটি অংশ। এবার সামনে এই মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত তত্ত্ব।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই ও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের। ওই হামলাতেই গুরুতর জখম হয়েছিলেন আয়াতোল্লার পুত্র মোজতবা খামেনেই। এরপর মোজতবাকে নয়া সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এতদিনে একবারও জনসমক্ষে আসেননি তিনি। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
