সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হয়েছে এক বছর আগে। বহু টালবাহানার পরে অবশেষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এরপরেও ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। বিক্ষোভকারীরা মূলত আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, ইউনুসের জমানায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা বেড়েছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রসংঘের সামনের জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে, 'ইউনুস পাকিস্তানি। আপনি পাকিস্তানে চলে যান।'
শুক্রবার, রাষ্ট্রসংঘের সভায় বক্তব্য রাখেন মহম্মদ ইউনুস। নিজের বক্তব্যে গত একবছরে বাংলাদেশের উন্নতির খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের বক্তব্যে, বাংলাদেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। ইউনুসের দাবি, এই শ্রমিকরা শুধু বাংলাদেশ নয়, যে দেশেই কাজ করতে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইউনুসের ভাষণ চলাকালীন বাইরে জড়ো হওয়া জনতার মনোভাবের সঙ্গে মেলেনি ইউনুসের বক্তব্যের নির্যাস। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারকে 'অবৈধ' আখ্যা দিয়ে তাঁদের দাবি, গণ-অভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন হাসিনা। এরপর থেকেই দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার মাত্রা ছাড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, "আমরা অবৈধ ইউনুস সরকারের বিরোধিতা করছি।" তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশকে মৌলবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ইউনুস। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবস্থাকে তালিবান শাসনের সঙ্গে তুলনা করে তাঁদের দাবি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপরে আক্রমণ চালাচ্ছে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত মুক্তির দাবি তলেন বিক্ষোভকারীরা।রাষ্ট্রসংঘের সভা চলাকালীন বাইরে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিও জানিয়েছেন।
