ঘরে-বাইরে কোণঠাসা হয়ে এবার নিজের জাত চেনাল সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর ধর্মান্ধ পাকিস্তান। কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে কাঁটা বেছাতে ব্যর্থ হয়ে এবার ধর্মের নামে উসকানি দিতে শুরু করল ইসলামাবাদ। ইসলামের বিধান তুলে ধরে আফগানিস্তানের উদ্দেশে তাদের বার্তা, 'মুসলিম হয়ে কাফেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা কোনওভাবেই উচিত নয়।' পাকিস্তানের ডিজি আইএসপিআর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ চৌধুরীর এই বয়ান সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত ও আফগানিস্তানের ডিএনএ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল আহমেদ চৌধুরীকে। জবাবে তিনি কোরানের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, "যারা ভারত ও হিন্দুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তাদের নিজেদের ইসলামি নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।" এরপর পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ সংঘাতের দায় ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে, তালিবানের সঙ্গে ভারতের আঁতাতের অভিযোগ করেন চৌধুরী। বলেন, "আমি আফগান জনগণের কথা বলছি না। আমি তালিবান শাসনের কথা বলছি। আসলে কার ডিএনএ একই রকম তা বুঝতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তালিবানের ডিএনএ, সাধারণ আফগানদের ডিএনএ-এর মতো নয়। এই তালিবান শাসনের সাধারণ আফগানরা নিপীড়িত হচ্ছেন। ফলে দুই ডিএনএ কোনওভাবেই এক নয়।''
কোরানের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে পাক আধিকারিক বলেন, "যারা ভারত ও হিন্দুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তাদের নিজেদের ইসলামি নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।"
এরপরই কোরানের উদ্ধৃতি তুলে ধরে ওই পাক আধিকারিক বলেন, "আল্লা স্পষ্টভাবে বলেছেন, অবিশ্বাসীদের বন্ধু বা রক্ষক বানিও না। যদি তা করো, তবে তুমি প্রকৃত মুসলমান নও। সুতরাং, আমাদের ডিএনএ-র অর্থও বুঝতে হবে। ডিএনএ দেখায় সম্পর্ককে। হ্যাঁ, কিছু সাদৃশ্য অবশ্যই আছে। কিন্তু ভারতীয় এবং আফগান তালিবানের মধ্যে প্রকৃত সম্পর্ক হলো প্রভু ও দাসের। তালিবানরা ভারতের আধিপত্য মানসিকতার সহযোগী।"
উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তান থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত বহু মানুষ স্বীকার করেন তাঁদের পূর্বপুরুষ ভারতের। তবে পাকিস্তান ১৯৪৭ সাল থেকে নিজেদের পূর্বপুরুষ নিয়ে নানা গল্প তৈরি করে আসছে। শুরুতে, তারা নিজেদেরকে আরবদের বংশধর বলে দাবি করত। পরে, আরবরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে, তারা তুরস্কের মধ্যে নিজেদের উৎসের সন্ধান শুরু করে। কিন্তু আসল সত্য হলো, এটিও পাকিস্তান ভারতীয় ডিএনএ-র অংশ। এদিকে তালিবানের সঙ্গে ব্যাপক সংঘাতের জেরে চাপে পাকিস্তান। এই অবস্থায় ইসলামকে হাতিয়ার করে আফগানিস্তানের মন পাওয়ার খোঁজে ইসলামাবাদ।
