সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুর নরম করল মায়ানমার। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার পর প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে সু কি সরকার। বাংলাদেশের বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ রয়েছে ওই শরণার্থীরা।
[রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মায়ানমারের]
প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সীমান্তে শরণার্থীদের অবস্থান নিয়ে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ও মায়ানমার সেনার আধিকারিকরা। এদিন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র কক্সবাজার আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম রকিবুল্লাহ জানান, শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বার্মিজ সেনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মায়ানমার সীমান্ত পুলিশের মংডু আঞ্চলিক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন টুয়ে।
সাংবাদিকদের জেনারেল এসএম রকিবুল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের উপস্থিতির অভিযোগ জানিয়েছে মায়ানমার। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিজিবি। বাংলাদেশ কখনও জঙ্গিদের আশ্রয় দেবে না। একই সঙ্গে সীমান্তে মাদক পাচারচক্রের রমরমা নিয়েও দু’পক্ষের আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইয়াবা-সহ অন্যান মাদক পাচার রুখতে একসঙ্গে অভিযান ও চালাতে পারে দুই সেনা। এদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা জটিল হলেও সমাধান সম্ভব বলেই মত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত র্মাশা বার্নাকাট। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
উল্লেখ্য, পরিচয়ের প্রমাণ দিতে না পারায় আগে শরণার্থীদের ফেরত নিতে অস্বীকার করেছে নাইপিদাও। ফলে এবার সেনা অভিযানে বিধ্বস্ত মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কাজে নামছে রাষ্ট্রসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার৷ অনুমান, শরণার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগবে৷ জানা গিয়েছে, শরণার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা পরিসংখ্যান-সহ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে৷ যদিও চলতি বছরের শুরুতেই রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চুক্তি স্বাক্ষর করে মায়ানমার। যদিও নানা আইনি জটিলতার দুহাই দিয়ে আজও ওই চুক্তি বাস্তবায়িত করেনি সে দেশ।
[প্রবল বৃষ্টিতে বিপন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা, বানের জলে ভাসল কয়েকশো আশ্রয় কেন্দ্র]
The post সুর নরম মায়ানমারের, ৫ হাজার শরণার্থী ফেরত নিতে রাজি নাইপিদাও appeared first on Sangbad Pratidin.
