নেপালে (Nepal) নিষিদ্ধ গাঁজা। তবে তা সত্ত্বেও ওষুধ হিসেবে গাঁজা চাষ ও ব্যবহারের বৈধতা দিয়েছে নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের প্রশাসন। ওই প্রদেশের গভর্নর বিতর্কিত আইনটিতে অনুমোদন দিতেই তা কার্যকর হয়ে গিয়েছে। গণ্ডকী প্রদেশের সীমান্ত ভারতের বিহার রাজ্যের সংলগ্ন। স্বাভাবিক ভাবেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই আইনের অপব্যবহার করে কি বিহারে চোরাচালান হতে পারে গাঁজার?
নেপালের একটি স্থানীয় ও প্রাকৃতিক উদ্ভিদ গাঁজা। সেদেশের জাতীয় আইন অনুযায়ী, কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাঁজা রাখলে তাঁর একমাসের কারাদণ্ড হবে। আর গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ দশ বছরের সাজা হতে পারে। উল্লেখ্য, নেপালের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসবে গাঁজার ব্যবহার অনেক ধরেই বহুলপ্রচলিত বলে জানা যায়। গাঁজা চাষ ও ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলনও হতে দেখা গিয়েছে। এবার সেদেশের সাতটি প্রদেশের অন্যতম গণ্ডকী প্রদেশে গাঁজা চাষকে বৈধতা দেওয়ার ফলে এক নজির তৈরি হল। প্রশাসনে থাকা দল ও বিরোধীরা সকলেই এই আইন পাশে সম্মতি দিয়েছে। যা বুঝিয়ে দেয়, সেদেশে এই বিষয়ে একধরনের ঐক্যমত্য রয়েছে। যদিও এই নয়া আইনটি নেপালের জাতীয় মাদক-বিরোধী আইনের সরাসরি বিপ্রতীপ হওয়ায় তা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বিষয়টি হল, নেপাল ভারতের সীমান্তবর্তী দেশ। বিহারে মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকায় অনেকেই অ্যালকোহল-বহির্ভূত 'শুকনো নেশা'র দিকে ঝুঁকেছেন। এমতাবস্থায় গণ্ডকীতে গাঁজা বৈধ হওয়ার কী প্রভাব বিহারের উপরে পড়ে সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতেও চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত গাঁজা নিয়ে আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে। এর আওতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত গবেষণা এবং গাঁজা-ভিত্তিক কিছু ওষুধের ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
