সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিনের প্রথা। বাড়ির মেয়ে ঋতুমতী হলেই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হত গোয়ালঘর বা এরকম কোনও জায়গায়। ঘর থেকে দূরে। কেননা ঋতুমতী হওয়া মানেই কন্যা অপবিত্র। এই প্রথাই চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সমাজ যতই এগিয়ে চলুক, এ নিয়মের ব্যতিক্রম নেই। ছুৎমার্গ থেকেই গিয়েছে। কিন্তু এতদিনে এই প্রথায় ইতি পড়তে চলেছে। নেপালে আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে ‘চৌপদি’ নামে এই প্রথা।
[ বক্ষে দেখাও হৃদয়খানি, নয়া চ্যালেঞ্জে ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া ]
ঋতুকাল মানেই মহিলাদের কাছে বিভীষিকা। যে কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রেই এ কথা সত্যি। সমাজ যতই প্রগতিশীল হোক না কেন, এ ছবির বদল নেই। নেপালে এতদিন পর্যন্ত ঋতুকালে মহিলাকে নির্বাসিত হতে হত গোয়ালঘরে। মনে করা হত, হিন্দুধর্মের সঙ্গে এর যোগ আছে। আর তাই কোনওভাবেই এ নিয়মের ছাড় ছিল না। এ প্রথার নাম ‘চৌপদি’। এতদিন ধরে তাই-ই সহ্য করে এসেছেন মহিলারা। কিছুদিন আগেই এর জেরে গোয়ালঘরে সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়েছিল এক কিশোরীর। তারপরই সরব হন মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁদের আন্দোলন অবশ্য আজকের নয়। কিন্তু যেহেতু সেরকম কোনও কঠোর আইন এতদিন ছিল না, তাই সব আন্দোলনই স্রেফ ভস্মে ঘি ঢালা হচ্ছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এক দশক পেরলেও এ অভ্যাস বন্ধ হয়নি। বরং দিনে দিনে তা বেড়েছে। তবে শেষমেশ সুরাহা হল। বুধবার নেপালের সংসদে এই ‘চৌপদি’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ‘চৌপদি’র নামে কোনও মহিলাকে নির্বাসিত করে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। নয়া নিয়মে কেউ যদি ঋতুমতী নারীকে ‘চৌপদি’তে বাধ্য করেন, তবে তার তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। এমনকী দুইই হতে পারে।
[ ‘মুসলিমদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ]
দীর্ঘদিন এই বঞ্চনা ও অবিচার সহ্য করতে হয়েছে মহিলাদের। যে ঋতুকাল মহিলাদের সন্তানধারণের উপযুক্ত করে তোলে, সমাজকে অবলুপ্তির হাত থেকে বাঁচায়, তাই-ই যেন এতদিন অভিশাপ ছিল। এবার নেপাল সংসদের এ আইন যেন আশীর্বাদ হয়েই নেমে এল। শুধু নেপাল নয়, ঋতুকালে মহিলাদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়তে হয় ভারতেও। আজও নামী মন্দিরে মহিলাদের এ ব্যাপারে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। নেপাল পারল। ভারতও কি পারবে? এখন ঘোরাঘুরি করছে সে প্রশ্নই।
The post ঋতুমতী মহিলাকে অপবিত্র বলে সরিয়ে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ appeared first on Sangbad Pratidin.
