shono
Advertisement

Breaking News

Nepal Flash Flood

প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডবে তছনছ বুদ্ধের দেশ! নেপালে ভয়ংকর হড়পা বানের নেপথ্যে কোন কারণ?

বুধবার সকাল থেকেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ক্ষীণতোয়া ভোটেকোশী নদী মুহূর্তে খ্যাপা ষাঁড়ের গতিতে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে আশপাশে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, জনবসতি, নগর সভ্যতার সমস্ত চিহ্ন। আরও একবার ভয়াবহ ধ্বংস ও হাহাকারের মুখে গৌতম বুদ্ধর দেশ।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 10:04 AM Aug 27, 2026Updated: 12:35 PM Aug 27, 2026

প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডব তছনছ গৌতম বুদ্ধের দেশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬২। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ৩০০ জন ভারতীয়। প্রকৃতির এই ভয়াবহ প্রলয়লীলার ছবি প্রায় বিরল। কিন্তু নেপালে ভয়ংকর হড়পা বানের (Nepal Flash Flood) নেপথ্যে রয়েছে কোন কারণ?

Advertisement

বুধবার দুর্যোগের পর থেকেই একাধিক তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসছিল। কেউ বলছিলেন, তিব্বত সীমান্তে ভূমিকম্পের কারণেই এই বিপর্যয়। আবার ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ বলছিলেন, নদীর গতিপথে হিমবাহ ধসের জেরে পাথর এবং বরফের স্তূপ আটকে ছিল। এই অবস্থায় ক্রমশ বাড়তে থাকে জলের চাপ। আর সেই চাপ থেকে ভয়াবহ হড়পা বান। এই আবহে মার্কিন ভূবিজ্ঞান সংস্থা বা ইউএসজিএস-র একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে ভূমিকম্পের তত্ত্বটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, বুধবার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার উত্তরে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। কিন্তু পরে তারা তাদের মূল্যায়ন সংশোধন করে জানায় যে, এই কম্পন ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট নয়। এটি হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.২। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিকটবর্তী ভূ-কম্পন পরিমাপক কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য, ভূ-কম্পন তরঙ্গ এবং প্রাপ্ত উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচের দিকে নেমে আসে এবং আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। এর জেরেই উপত্যকার নিচের জনবসতিগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরাও এই হড়পা বানের নেপথ্য কারণ হিসাবে হিমবাহ ধসকেই মান্যতা দিয়েছে।

ডাইনোসরের মতো একের পর এক বিরাট ঢেউয়ের গ্রাসে জনপদ। ছবি: সংগৃহীত।

কাঠমান্ডুর ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল বলেন, “গত ১৪ মাসে মধ্যে লেন্ডে খোলা নদীতে দু'বার বন্যা হয়েছে। এবারের বন্যার কারণ হল হিমবাহ ধস। নেপালের একটি হিমবাহে ধসের ফলে বরফ ও পাথর নদীর গতিপথকে অবরুদ্ধ করে। ফলে অতিরিক্ত জলের চাপে হড়পা বান নামে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement