নেপালে প্রকৃতির রুদ্র তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬২৬ জন মানুষের। নিখোঁজ হাজারেরও বেশি। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রতিবেশীর পাশেই থেকেছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে সেদেশের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পোড়েল 'সংহতি ও সহায়তা'র জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানাল।
এদিন রামচন্দ্র পোড়েল জানিয়েছেন, ‘‘নেপালের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, নেপালে সাম্প্রতিক দুর্যোগের পর আপনাদের উদ্বেগ এবং আপনার সরকারের উদার সহায়তা ও সংহতি প্রদর্শনের জন্য।" সেই সঙ্গেই তিনি ভারতের প্রতিও নেপালের শোকবার্তা পৌঁছে দিয়ে বলেন, "২৬ আগস্ট, ২০২৬-এর দুর্যোগে ভারতীয় নাগরিকদের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমরা ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক শোক ও গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছি।" উল্লেখ্য, অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ মেলেনি এখনও।
শুক্রবার দুপুরে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছিলেন, “ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপাতত বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত বদল করে প্রতিবেশী দেশটি।
বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানের পর ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন নেপাল। কিন্তু এরই মধ্যে তিব্বতে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভাঙার খবর সামনে এসেছে। অর্থাৎ বুধের বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতে ফের নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কায় নেপাল। রাসুয়া, ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। হড়পা বানের সতর্কতায় উদ্ধারকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এদিকে বিপর্যস্ত নেপালকে সতর্ক করেছে চিন। যে কোনও মুহূর্তে লেন্ডে নদীর অববাহিকার উজানে সৃষ্ট হ্রদটির পাড় ফেটে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেজিং। জলের রং পরিবর্তন দেখেই এই ঝুঁকির কথা জানিয়েছে তারা। তবে বেজিং জানিয়েছে, হ্রদটি ভেঙে গেলেও নদীতে জলের সর্বোচ্চ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটারের বেশি হবে না।
