ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার (Ayatollah Ali Khamenei Death) পরিকল্পনা করা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে। আমেরিকাকে অন্ধকারে রেখেই এই হত্যার ব্লু প্রিন্ট সাজিয়ে ছিল ইজরায়েল। যদিও শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল করা হয় কারণ ইরানজুড়ে তখন খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টজ।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্টজ বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এক গোপন সামরিক বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। সেখানেই পরিকল্পনা করা হয় ২০২৬ সালের জুন মাস নাগাদ চালানো হবে এই অভিযান। শুরুতে এই হামলার বিষয়ে আমেরিকাকে কিছুই জানানো হয়নি। কার্টজ বলেন, "আমরা ঠিক করেছিলাম খামেনেইকে খতম করা হবে প্রয়োজনে একাই এই অভিযান চালানো হবে। একা এই অভিযান শেষ করার মতো ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।"
কার্টজ বলেন, "আমরা ঠিক করেছিলাম খামেনেইকে খতম করা হবে। প্রয়োজনে একাই এই অভিযান চালানো হবে। একা এই অভিযান শেষ করার মতো ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।"
তবে গোটা পরিস্থিতি বদলে যায় ডিসেম্বর মাসের শেষে। ইরান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সেখানকার জনতা। মোল্লাতন্ত্রের অবসান চেয়ে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি দেখে সতর্ক হয়ে ওঠে আমেরিকা ও ইজরায়েল। আশঙ্কা ছিল এই অবস্থায় ইরান ইজরায়েল ও আমেরিকার ঘাঁটিতে আগাম হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে হামলার দিন এগিয়ে আনা হয়। এর পরবর্তী অধ্যায় সকলের জানা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে তেহরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। খামেনেইয়ের দপ্তরে চলে মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ। মৃত্যু হয় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ বারের হামলা গতবারের তুলনায় তিনগুল বেশি শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বা পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস করা নয়, বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে সেখানকার সাধারণ মানুষ ইরানের সরকারকে উপড়ে ফেলতে পারে। ইজরায়েলের মন্ত্রীর দাবি, "আমরা চাই ইরানের জনগণ এই শাসনের পতন ঘটাক। আমরা সেই রাস্তাটা আরও পরিষ্কার করে দিচ্ছি।"
