নিকারাগুয়ায় (Nicaragua) আর কোনও নির্বাচন হবে না। এমনটাই ঘোষণা করেছেন সেদেশের দু'দশকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা। ২০২৭-এ তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন ঘোষণায় তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বিরোধীদের ক্ষমতায় আসার সমস্ত সম্ভাবনাই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে।
৮০ বছরের ওর্তেগা মসনদে রয়েছেন ২০০৭ সাল থেকে। এদিন তিনি জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। আর এই নয়া আইনেই বিরোধীদের সামনে তৈরি হয়ে যাবে এক দেওয়াল। ১৯৭৯ সালের সান্দিনিস্তা বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী ছিল রবিবার। আর সেদিনই এই ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, সান্দিনিস্তা বিপ্লবের মাধ্যমেই একনায়ক অ্যানাস্তাসিও সোমোজাকে গদিচ্যুত করা সম্ভব হয়। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন ওর্তেগা।
বলে রাখা ভালো ওর্তেগার স্ত্রী ও সহ-প্রেসিডেন্ট রোজারিও মুরিলোর শাসনকালেই এই দেশে গণতন্ত্রের ক্রমাবনতি স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু এদিন ওর্তেগার এমন ঘোষণাকে সুস্পষ্ট একনায়কতন্ত্রের সূচনা করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ওর্তেগা ও মুরিলো দেশটিকে পুরোপুরি একটি পারিবারিক একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, জোর করে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীকে উপস্থিত করানো হয়েছিল ওই অনুষ্ঠানে। আর সেখানেই ৬১ দিন জনসমক্ষে না আসা ওর্তেগা বলেন, ''এখানে আর কোনও নির্বাচন হবে না, যার সুযোগ নিয়ে ওরা (বিরোধী দলগুলি) সরকার বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে। আমরা জাতীয় পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে মিলে আইন প্রণয়নের কাজ করব। এটার প্রয়োজন রয়েছে দেশকে বিক্রি করে দেওয়া বিশ্বাসঘাতক ও বিক্ষোভকারীদের সামনে তা এক দেওয়াল প্রতিবন্ধকতা গড়ে তুলবে।''
এমন ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওর্তেগা ও মুরিলো এই ভেবে ভীত যে, সামান্যতম রাজনৈতিক সুযোগও ভিন্নমত প্রকাশের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ভোট কারচুপি না করে এবার নির্বাচনী কাঠামোকেই পুরোপুরি নির্মূল করার পথ বেছে নিয়েছেন।
