সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তেজনা চরমে পৌঁছে গিয়েছে, যেকোনও মুহূর্তেই শুরু হতে পারে পরমাণু যুদ্ধ। এভাবেই রাষ্ট্রসংঘ-সহ গোটা বিশ্বকে হুঁশিয়ারি দিল উত্তর কোরিয়া। সোমবার রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত সেদেশের ডেপুটি অ্যাম্বাসাডর কিম ইন রিয়ং এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, পিয়ংইয়ং-এর প্রতি ওয়াশিংটনের বৈষম্যমূলক নীতি ও দমননীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র সংবরণ করবে না উত্তর কোরিয়া।
[ট্রাম্পের কেচ্ছার খবর দিলে মিলবে ৬৫ কোটি, ঘোষণা বিজ্ঞাপনে]
একদিকে যখন কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে ১০ দিনের সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে দুই বন্ধু রাষ্ট্র আমেরিকা এবং দক্ষিন কোরিয়া। রয়েছে মার্কিন নৌসেনার একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও দু’টি ডেস্ট্রয়ার। আর এর মাঝেই নতুন করে এই বিবৃতি দিল পিয়ংইয়ং। কিম ইন রিয়ং-এর মতে, উত্তর কোরিয়া এখন বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে একটি। সেদেশের ভাঁড়ারে একাধিক পাল্লার পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। গোটা মার্কিন ভূখণ্ড পিয়ংইয়ং-এর নয়া ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া একটি দায়িত্বশীল পরমাণু রাষ্ট্র। ”উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপে যদি কোনও দেশ শামিল না হয়, তাহলে আমরাও সেই দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র কখনই ব্যবহার করব না বা পরমাণু হামলার ভয় দেখাব না।”
তবে কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যেকোনও মুহূর্তে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।’ তবে এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘যতদিন না আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তাঁদের নীতির পরিবর্তন করছে কিংবা পরমাণু হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া বন্ধ করছে ততদিন কোনও পরিস্থিতিতেই উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র বা আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভাঁড়ারে তুলে রাখবে না।’
[জিনস পরে হাঁটছেন মালালা! ভাইরাল ছবি ঘিরে তোলপাড় নেটদুনিয়া]
বিগত কয়েকমাস থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক চরমে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবাজ নেতা কিম জং উনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি পিয়ংইয়ংকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পালটা হিসেবে কিম জং উন বলেছিলেন, গোটা মার্কিন ভূখণ্ড পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে যেকোনও রকম পদক্ষেপ আমেরিকার চরম ক্ষতি ডেকে আনবে। এমনকী ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার পর কিম দাবি করেছিলেন, তাঁরা এখন পৃথিবীর অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশগুলির মধ্যেই একটি। তবে এসবের মধ্যেই রবিবার মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট রেক্স টিলারসন জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনই যুদ্ধ চান না। কথাবার্তার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। যদিও পিয়ংইয়ং-এর নয়া এই বিবৃতিই ফের প্রমাণ করল যাই হোক না কেন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা কোনওমতেই বন্ধ করা হবে না।
The post শীঘ্রই শুরু হতে পারে পরমাণু যুদ্ধ, হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার appeared first on Sangbad Pratidin.
