রমজান শেষে খুশির ইদ (Eid 2026)। উৎসবে মাতোয়ারা গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়। কিন্তু খুশির জোয়ারে 'কাঁটা' হয়ে দাঁড়াল নতুন 'ফতোয়া'। আরব দুনিয়ার একাধিক দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, ইদ উপলক্ষে প্রকাশ্যে নমাজ পড়া যাবে না। খুশির ইদ উপলক্ষে কাতারে কাতারে মানুষ এক জায়গায় জমায়েত করে নমাজ পড়েন। কিন্তু এবছর তেমনটা হল না। মসজিদের অন্দরে গিয়েই নমাজ পড়লেন সকলে।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৯ মার্চ ইদের চাঁদ দেখা গিয়েছে সৌদি আরবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ইদ পালিত হয়েছে শুক্রবার। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, তুরস্ক, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, লেবাননের মতো দেশগুলিও শুক্রবার ইদ পালন করেছে। দেশগুলির নানা মসজিদে গিয়ে ইদের প্রার্থনায় শামিল হয়েছেন আমজনতা। মক্কা এবং মদিনাতেও ভিড় জমিয়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের ভক্তকুল। কিন্তু প্রকাশ্যে নমাজ পড়ার অনুমতি মেলেনি তাঁদের।
আরব দেশগুলিতে কেন প্রকাশ্য়ে নমাজ পড়ার অনুমতি মিলল না? কারণ গত ২১ দিন ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে যায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইদ উপলক্ষে বড়সড় জমায়েত লক্ষ্য করে আক্রমণ হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও ছিল। সেকারণেই আমজনতা প্রকাশ্যে নমাজ পড়তে বারণ করা হয়েছিল।
ইদের দিনেও আঘাত-প্রত্যাঘাত চালিয়ে গিয়েছে ইরান এবং ইজরায়েল। শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমান দু’টি এফ-৩৫ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান। একটি এফ-৩৫ জেটও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলের হানায় লেবাননে অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইদ উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশেই ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যুদ্ধের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই ইদ পালন করছে আরব দুনিয়া।
