shono
Advertisement
Pakistan bans Balochistan

'স্বাধীন বালোচিস্তান', ১১ আগস্টের উৎসবে নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের, কারফিউ জারি, বন্ধ ইন্টারনেট

পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা করেছে বালোচিস্তান। দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:34 PM Aug 10, 2026Updated: 03:34 PM Aug 10, 2026

পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা করেছে বালোচিস্তান। দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালোচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

Advertisement

সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বালোচিস্তানকে (Balochistan) হাতের মুঠোয় রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। সাধারণ বালোচ নাগরিকদের উপর সেনার নির্যাতনের মাত্রা লাগাম ছাড়িয়েছে। বহু জেলায় শুরু হয়েছ অভিযান। কোনওভাবেই যাতে ১১ আগস্ট বালোচরা স্বাধীনতা দিবস পালন করতে না পারে, তার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। পাক সেনার এই পদক্ষেপের পালটা এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতি জারি করেছেন বালোচ লিবারেশন আর্মির নেতা মির ইয়ার বালোচ।

বালোচদের তরফে জানানো হয়েছে, 'যে দখলদার বাহিনী মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চায় তাদের কোনও বেআইনি নির্দেশ মানতে বালোচরা মানবে না।'

এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'পাকিস্তানের দখলদার বাহিনী ১১ আগস্টের উদযাপন ঠেকাতে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তবে বালোচ জনগণ সক্রিয়ভাবে এবং উৎসাহের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাক সেনা আমাদের আটকাতে পারবে না। যে দখলদার বাহিনী মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চায় তাদের কোনও বেআইনি নির্দেশ মানতে বালোচরা মানবে না।' উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বালোচ লিবারেশন আর্মির তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, বালোচিস্তানের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে পাক সেনাকে উৎখাত করতে সফল হয়েছে তারা। এই অবস্থায় আগামী ১১ আগস্ট বালোচিস্তানের সকল নাগরিককে নিজের বাড়িতে পতাকা উত্তোলনের আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লা, বাজার, দোকানপাট এবং জনবহুল স্থানগুলোতে রিপাবলিক অফ বালোচিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হবে। বালোচ নেতা আরও বলেন, এখন থেকে প্রতি বছর ১১ আগস্ট দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে। এমনকী বিদেশে যেসব বালোচরা বসবাস করেন তাঁদের কাছেও আর্জি জানানো হয়েছে এই দিনটিকে উদযাপনের।

কিন্তু কেন এই দিনটিকেই স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নিল বালোচিস্তান? কারণ, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশ শৃঙ্খল ভেঙে প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল বালোচিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। ইতিহাস বলে সেই সময় ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়নি। পরে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হয় এবং ১৫ আগস্ট ভারত। অতীতের সেই ইতিহাসের উপর ভিত্তি করেই ১১ আগস্ট দিনটি বালচিস্তানের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বালোচিস্তানের পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। বিরাট সেনাবল নিয়ে লড়াইয়ে নেমেও এই অঞ্চলে রীতিমতো নাকানি চোবানি খেতে হচ্ছে পাক সেনাকে। এই অবস্থায় পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। তারই প্রতিবাদে স্বাধীনতার মরণপণ লড়াইয়ে নামে সেখানকার মানুষ। অবশেষে বালচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণায় পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, বালোচিস্তান স্বাধীন হলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পর দেশের আরও এক বড় অংশ খোয়াবে পাকিস্তান।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement