স্বাধীনতার দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন অব্যাহত বালোচিস্তানে। বালোচ বিদ্রোহীদের বিদ্রোহ দমনে ৯২ জনকে হত্যা করল পাক সেনা। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১২৫। আহতের সংখ্যা অন্তত ৩৩। মৃতদের মধ্যে বালোচ বিদ্রোহী ছাড়াও রয়েছে ১৫ পাক জওয়ান ও ১৮ সাধারণ নাগরিক। পাক সেনার সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাক জওয়ানদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে দাবি করেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। বলে রাখা ভালো, সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত ও অন্যান্য সহায়তা করার জন্য পাকিস্তান নিজেই দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের ধূসর তালিকায় ছিল। তারাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করলে তা যে বিশ্বাসযোগ্য হয় না, একথা বুঝেও বোঝেনি ইসলামাবাদ। এদিকে বহুবারই পাক সেনার তরফে এও দাবি করা হয়েছে, বালোচদের মদত জোগাচ্ছে নয়াদিল্লি। এই দাবি স্পষ্ট নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারত।
বালোচ বিদ্রোহীদের বিদ্রোহ দমনে ৯২ জনকে হত্যা করল পাক সেনা। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১২৫। আহতের সংখ্যা অন্তত ৩৩।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে বালোচিস্তানের জনগণ। পাক সেনার অকথ্য নির্যাতনের প্রতিবাদে সেখানে তৈরি হয়েছে সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি। এই বাহিনীকে দমন করতে গোটা বালোচিস্তানে অত্যাচারের সীমা পার করেছে পাক সেনা। পালটা আসছে প্রত্যাঘাত। বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান। পাশাপাশি শাহবাজ সরকারের ঘুম ছুটিয়েছে আর এক বিদ্রোহী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান। গুরুতর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বালোচ সংগঠনও হামলার ঝাঁজ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নামে পাক সেনা। একাধিক জায়গা ঘিরে ফেলে হত্যা করা হয় বালোচ বিদ্রোহীদের। এই হামলার পালটা শুক্রবার রাতে পাক সেনার বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা শুরু করে বালোচ লিবারেশন আর্মি। কোয়েটা, পাসনি, মাস্তুং, নুশকি এবং গদর জেলায় সেনাকে লক্ষ্য করে চলে হামলা। পাক সেনার তরফে জানা যায়, মূলত বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এবার পালটা দিল পাক সেনাও।
