ইরান এবং আমেরিকার সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করছে তেহরান।
সম্প্রতি ইরান হুংকার দিয়ে জানিয়েছে, শীঘ্রই তারা হরমুজ প্রণালীতে পাঁচদিনব্যাপী একটি সামরিক মহড়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে। তারপরই তেহরানকে পালটা দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী, ওই অঞ্চলে আমেরিকার মিত্রদেশগুলি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে ছেড়ে কথা বলবে না ওয়াশিংটন। কোনও অসতর্ক আচরণ বড় বিপদ ডেকে আনবে।
ইরান এবং ওমানের মাঝে যে সরু জলপথ রয়েছে, তা হরমুজ প্রণালী নামে পরিচিত। এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, ইরাকের মতো দেশগুলি এই পথ দিয়েই তেল রফতানি করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রফতানি হওয়া তেলের বেশির ভাগই প্রবেশ করে এশিয়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যদি কোনও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারত-সহ একাধিক রাষ্ট্রে। ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও, ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী (বাণিজ্য পথ) দিয়ে আসে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই পথে যদি কোনও রকম অশান্তি তৈরি হয়, তাহলে ভারতের বাণিজ্য বিরাট বাধার সম্মুখীন হবে।
