সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ইতি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘোর বীতশ্রদ্ধ ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনেছিলেন প্রতারণার অভিযোগ। তারপর সামরিক খাতে পাক মুলুককে একটি টাকাও না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঠিক তারপরই মুখরক্ষা করতে পালটা পদক্ষেপ পাকিস্তানের। এবার আমেরিকার সঙ্গেও সামরিক সব সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
[ বরদাস্ত করা হবে না ‘ড্রাগনের’ আস্ফালন, সাফ কথা মোদির ]
আফগান ভূমে সন্ত্রাস দমন করতে পাশাপাশি এসেছিল পাকিস্তান ও আমেরিকা। সন্ত্রাস দমনে মোটা অঙ্কের অর্থসাহায্য আসত আমেরিকা থেকে। অন্যদিকে সেই অর্থ সন্ত্রাসের কাজেই খরচ করত পাকিস্তান। অভিযোগ ভারত-সহ অন্যান্য দেশের। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহুবার এ ইস্যু উঠেছে। কিন্তু ছলে-কৌশলে তা এড়িয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। এদিকে আফগান মাটিতে সন্ত্রাস রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে আমেরিকারও। তালিবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ক যেভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে, তাতে কৈফিয়ত দিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। খুব প্রত্যাশিতভাবেই রোষ গিয়ে পড়েছে পাকিস্তানের উপর। বছরের গোড়াতেই তাই বিষোদ্গার করে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানকে আর্থিক মদত দিয়ে শুধুই প্রতারণা পেয়েছে আমেরিকা। তারপরই সামরিক খাতে আর কোনও অর্থসাহায্য না করার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ঠিক তারপরই সাফাই দিয়ে পাকিস্তান জানায়, আমেরিকার সাহায্য ছাড়াও পাকিস্তান চলতে পারে। তবু পাক মুলুকের কাছে এ যে বড় ধাক্কা ছিল, তা অনস্বীকার্য। ট্রাম্প সরাসরি আঙুল তোলার পর পাকিস্তান কীভাবে মুখরক্ষা করে, তাইই ছিল দেখার।
[ ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার নয়, মাদ্রাসায় তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদী’ ]
অচিরেই পালটা প্রত্যাঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিল পাক মুলুক। দ্য ডন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খুররম দস্তগির খান জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে আমেরিকা পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তাই এখন পাকিস্তানকে বলির পাঁঠা করতে চাইছে। কিন্তু পাকিস্তান তা কোনওভাবেই মেনে নেবে না। আমেরিকার সঙ্গে এরপর থেকে সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্রে আর কোনও সম্পর্ক রাখবে না পাকিস্তান। যে আত্মত্যাগ পাকিস্তান করেছে তার মূল্য চায় না। কিন্তু অন্তত স্বীকৃতিটুকু আসুক। মন্ত্রীর কথায় আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ স্পষ্ট। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অনেকটাই মান-অভিমানের পালা। এর আগেও আমেরিকা পাকিস্তানকে অর্থসাহায্য বন্ধ করেছে। ফের সম্পর্ক জোড়া লেগেছে। বিরাট অঙ্কের অস্ত্র ব্যবসাই বারবার বরফ গলিয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। ফলে এই গোঁসা পর্ব অচিরে মিটে যাবে বলেই ধারণা। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ ভারতের সামনে। পাকিস্তান যে সন্ত্রাসের মদতদাতা তা আর নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে পাশে নিয়েই যদি সন্ত্রাস দমনে নামে ভারত, তবে দীর্ঘকালীন কিছু সমস্যা মিটতে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
[ মোদি সরকারের প্রশংসায় বিশ্ব ব্যাঙ্ক, আর্থিক বৃদ্ধি বাড়ার পূর্বাভাস ]
