আমেরিকা-ইরানের (US Iran) মধ্যবর্তী সাঁকো হবে পাকিস্তান? ২৬ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইরানকে যে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসনের ওই প্রস্তাব পাকিস্তানই পৌঁছে দিয়েছিল ইরানের কাছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের (Conflict) আবহে হঠাৎই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। মূলত ইসলামাবাদের মাধ্যমেই উভয়পক্ষ বার্তা চালাচালি করছে। এমনকী আগামী দিনে পাকিস্তানের মাটিতে আলোচনার টেবিলে বসতে পারে বিবাদমান দুই দেশ। একথা জনিয়েছেন খোদ পাক প্রধানমন্ত্রী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে এসেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে আমেরিকার। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, ইরান তাঁকে বিরাট উপহার পাঠিয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওরা। আলোচনা সঠিক লোকেদের সঙ্গে চলছে বলেও জানান ট্রাম্প। এসবের মাঝেই সামনে এসেছে পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস-সহ ১৫ দফা শর্ত। ওই শর্তাবলী আদৌ ইরান মানবে কি না, যুদ্ধ আদৌ থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, যুদ্ধ থামাতে বৈঠকের আয়োজন করতে তৈরি আছে ইসলামাবাদ। আমেরিকা এবং ইরান রাজি থাকলে এই দ্বন্দ্ব মেটাতে বৈঠকের আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান।
শাহবাজের এই বক্তব্য যে হাওয়ায় ভাসানো কথা নয়, তার প্রমাণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতা সংক্রান্ত পোস্টটি পুনারায় পোস্ট করেছেন। এর থেকে আন্দাজ করা যায় যে শাহবাজের প্রস্তাবে সায় রয়েছে ট্রাম্পের। যদিও আমেরিকার ১৫ দফা দাবি ইরান মানবে না বলেই মনে করছে সমর বিশেষজ্ঞরা। কারণ পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস, নতুন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করা ইত্যাদি শর্তের তেহরান মানেনি বলেই তো যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বে সত্যিই পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিলে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়বে ভারতের জন্যে। যেহেতু দিল্লি উভয় দেশের 'বন্ধু'। মাঝখান থেকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে উভয় দেশকে কাছে টানতে চাইছে ইসলামাবাদ।
