সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তিক্ততা মিটেছে আগেই। এবার মালদ্বীপের সঙ্গে 'বন্ধুত্ব' বাড়াতে চাইছে ভারত। চিনপন্থী প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর আমন্ত্রণে সেদেশে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজের বিখ্যাত আলিঙ্গন কূটনীতিও ঝালিয়ে নিয়েছেন নমো। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরে নেমেই বুকে টেনে নিয়েছেন মুইজ্জুকে।
ব্রিটেন সফর সেরে মালদ্বীপ পাড়ি দিয়েছেন মোদি। শুক্রবার তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন মুইজ্জু। বিমান থেকে নেমেই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানী মালেতে 'বন্দে মাতরম' এবং 'ভারত মাতা কি জয়' ধ্বনিতে মোদিকে স্বাগত জানান মালদ্বীপের আমজনতা। পরে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মালদ্বীপের প্রবাসী ভারতীয়রাও। এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মলদিভিয়ান ভাষায় এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু নিজে আমাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে এসেছেন। আশা করি ভারত-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।'
২৫ ও ২৬ জুলাই মালদ্বীপে থাকবেন মোদি। দেশটির ৬০তম জাতীয় দিবসের প্রধান অতিথি হিসাবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়েই মালদ্বীপে গিয়েছেন মোদি। এই নিয়ে তৃতীয়বার মালদ্বীপে গেলেন তিনি। এবার দু'দিনের সফরে মুইজ্জুর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মোদি। এছাড়াও ভারতের সহায়তায় তৈরি হওয়া একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হন মুইজ্জু। তারপর এই প্রথমবার কোনও রাষ্ট্রনেতা মালদ্বীপে পা রাখলেন।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু ২০২৪ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের পর ভারত সফর করে সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই পদক্ষেপেরই প্রতিফলন এবং সম্প্রসারণ ঘটবে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের মাধ্যমে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার দিকেও গুরুত্ব দেবে এই সফর, এমনটাই মত বিশ্লেষকদের। মালদ্বীপে পা রেখে মোদিও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতি করতে দুই দেশই চেষ্টা করছে। এহেন পরিস্থিতিতে চিন কিছুটা চাপে থাকবে বলেই মত বিশ্লেষকদের। কারণ মালদ্বীপকে ব্যবহার করে ভারতকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেছিল বেজিং। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ।
