বৃহস্পতিবার, ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। ঠিক তার আগের দিন ইটালির রোম শহরে চা-পানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে উদযাপন করল সেখানকার ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন (এফএও)। এই অনুষ্ঠানে নিজেকে চাওয়ালা বলে পরিচয় দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এইসঙ্গে ভারতে চায়ের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করলেন তিনি।
এফএও-র অনুষ্ঠানে মোদির ভাষণ ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি বলেন, "যেমনটা বলা হয়েছে, আগামিকাল আপনারা চা দিবস উদযাপন করতে চলেছেন। চা দিবস উদযাপনের জন্য, একজন 'চাওয়ালা' (চা বিক্রেতা) একদিন আগেই আপনাদের মাঝে চলে এসেছে! ভারতের চায়ের প্রকারভেদ অনেক, এখানকার চায়ের কড়া ভাবও অসাধারণ।" ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মুখে একথা শুনে উপস্থিত জনতা হেসে ওঠে এবং করতালি দিয়ে অভিবাদন জানায়।
বুধবার ইটালির সংগঠন এফএও মর্যাদাপূর্ণ এগ্রিকোলা পদক ২০২৬ প্রদান করে মোদিকে (PM Modi)। সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, মোদিকে এই পদক দেওয়া হয়েছে মানব কল্যাণে ভারতের অবিচল অঙ্গীকারের জন্য। পালটা প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের প্রতি উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আমাকে এগ্রিকোলা পদক দিয়ে সম্মানিত করার জন্য এফএও-র মহাপরিচালকের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভারতের প্রতি তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং এফএও-তে তাঁর বহু বছরের অবদানের প্রশংসা করি।" আরও বলেন, "এই সম্মান শুধু আমার নয়, এটি ভারতের কোটি কোটি কৃষক, পশুপালক, জেলে, কৃষি বিজ্ঞানী এবং অসংখ্য কর্মীর।"
প্রসঙ্গত, চায়ের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। কথিত আছে, খ্রিষ্টপূর্ব ২৭২৭ অব্দে চিনের সম্রাট শেন নুং-এর রাজপ্রাসাদে একদিন গরম জলের পাত্রে বাতাসে উড়ে এসে কিছু বুনো পাতার টুকরো। সম্রাট সেই জল পান করে অদ্ভুত স্বাদ ও নতুন শক্তির সন্ধান পান।
মূলত চিকিৎসাগুণ সম্পন্ন ভেষজ হিসেবে শুরু হলেও, পরবর্তীতে চা রাজকীয় পানীয়তে রূপ নেয়। ১৬ শতকে পর্তুগিজ বণিকদের মাধ্যমে চা এশিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছায়। ১৭ শতকে এটি ব্রিটিশদের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে এক বৈপ্লবিক পানীয় হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রসংঘ ২০১৯ সালে ২১ মে-কে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পর থেকে প্রতি বছর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয় গোটা বিশ্বে।
