আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শক্তির বহর বাড়িয়েই চলছে রাশিয়া। পারমাণবিক শক্তির দুনিয়ায় সবচেয়ে বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের ঝলক দেখালো পুতিনের দেশ। মঙ্গলবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল 'সরমত' (Sarmat Missile)- এর সফল পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। ভয়ংকর এই ক্ষেপণাস্ত্রের পোশাকি নাম 'সাতান-২'। দাবি করা হচ্ছে, পৃথিবীর সামরিক ভাণ্ডারে যত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই সরমত। চলতি বছরের শেষেই রুশ সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হবে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সরমতের ওয়ারহেডের মারণ ক্ষমতা যে কোনও পশ্চিমি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ৪ গুণ বেশি। দৈত্যের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি। যার অর্থ গোটা বিশ্বের যে কোনও অঞ্চল এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির যে কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম এই মারণাস্ত্র। অতীতে সোভিয়েত নির্মিত ৪০টি আর-৩৬এম ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্ত হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
দৈত্যের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি। যার অর্থ গোটা বিশ্বের যে কোনও অঞ্চল এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে রাশিয়া। মঙ্গলবারের আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি মাত্র একবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে 'সরমত'-এর পরীক্ষা চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পুতিন জানিয়েছেন, "এই ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখতে পারে এমন কোনও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকার হাতে নেই। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। চলতি বছরের শেষে সরমতকে পুরোপুরি সেনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"
উল্লেখ্য, পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বন্ধ করার জন্য রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে সর্বশেষ চুক্তিটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কথা স্বীকার করেছে রাশিয়া। পুতিনের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া এই পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছে। কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।
