সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৫ বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা যুদ্ধে ইতি টানতে আমেরিকার মধ্যস্থতায় সোমবার সৌদি আরবে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের আগেই ইউক্রেনে বেলাগাম হামলা চালাল রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় কিয়েভ-সহ ইউক্রেনের একাধিক শহরে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এহেন হামলার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সোমবার সৌদির এই শান্তি আলোচনা কতদূর বাস্তবায়িত হবে।

ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাতভর ইউক্রেনে ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভের পাশাপাশি হামলা চলে খারকিভ, সুমি, চেরনিহিভ, ওডেসা, দোনেৎস্কের মতো অঞ্চলগুলিতে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি অনুযায়ী ১৪৭টি ড্রোন হামলা চালানো হলেও ৯৭টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। হামলার জেরে কিয়েভ শহরে এক ৫ বছরের শিশু-সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১০ জন। এছাড়া দোনেৎস্কেতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। পাশাপাশি ক্ষতিগস্ত হয়েছে আরও বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভবন।
এই হামলার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এত তৎপরতা আমেরিকার তা আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি? ইউক্রেনের বাসিন্দাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, 'এই ঘটনার পর এটা স্পষ্ট যে রাশিয়ার সঙ্গে কোনও চুক্তি সাক্ষর করলে তা শুধুমাত্র খাতায় কলমে সাক্ষরিত হবে, বাস্তবে এর কোনও মূল্য থাকবে না।' শুধু তাই নয় তাঁদের অভিযোগ, 'আমেরিকা কখনও আমাদের সমস্যা বুঝবে না।' এদিকে সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, 'চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ১৫৮০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে মস্কো। এর পাশাপাশি ১১০০টি ড্রোন হামলা ও ১৫ বার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলেছে। শান্তিচুক্তি করতে গেলে সবার আগে এই হামলা বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।'
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে বসার পর এই যুদ্ধ থামাতে তৎপর হয়েছেন। শান্তির লক্ষ্যে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবে। সোমবার সৌদিতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠকে বসার কথা ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের। তবে তার আগেই ইউক্রেনে হামলা চালাল রাশিয়া।