পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ফের জল্পনা। গত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইমরান। এবার দাবি করা হল, পরিবারকে না জানিয়ে তাঁকে জেল থেকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা চলছে। পাকিস্তান সরকারের এই গোপনীয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তাঁর দল 'পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ' (PTI)। তাঁদের অভিযোগ, যা ঘটছে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, ইমরানের জীবন ঝুঁকির মধ্যে।
একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করেছিল শাহবাজ সরকার। বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সি ইমরান বন্দি রয়েছেন আদিয়ালা জেলে। কারাগারে দফায় দফায় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, বিনা চিকিৎসায় তাঁর ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে, চোখের সমস্যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে, চোখের সমস্যার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং একটি ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবারকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
এই অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পিটিআইয়ের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ইমরান খানকে তাঁর পরিবারের অজান্তেই গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ধরনের মৌলিক অধিকার ও আইনি বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন। পিটিআইয়ের আরও অভিযোগ, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে ইমরানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে দলের তরফে। শুধু তাই নয়, ইমরানের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁর চোখ পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার।
এদিকে ইমরান ইস্যুতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। গত শুক্রবার ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করার দাবিতে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধী শিবির। ধর্নায় বসেছেন বহু নেতা। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যতক্ষন না ইমরানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে ততক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে ইমরানকে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তাঁর দল ও পরিবারের দাবি, পরিবারের সম্মতি ছাড়া যেন কোনও পদক্ষেপ না করা হয়।
