পরমাণু প্রকল্পে লাগাম না টানলে পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে বারবার হুমকি দিয়ে এসেছে ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সেই হুমকির মুখে এবার সুর খানিক নরম করল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের উপর যে সব নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা, তা যদি তুলে নেওয়া হয়, তবেই পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আপসের পথে হাঁটবে তারা।
ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী মজিদ তখত-রাভানচি সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আপাতত বল আমেরিকার কোর্টে। ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যদি সত্যিই দু'দেশের মধ্যে টানাপড়েনে লাগাম টানতে চান, তাহলে সেটা তাদের প্রমাণ করতে হবে। মজিদের কথায়, "ওরা যদি এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে থাকে, তাহলে আমরাও সমঝোতার পথে হাঁটতে তৈরি।"
তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আপত্তি তুলে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার নানা প্রান্তে সামরিক গতিবিধি বাড়িয়েছে আমেরিকা। যার জেরে যুদ্ধ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এই টানাপড়েনে লাগাম টানতে বৈঠকেও বসেছে দু'দেশ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সমঝোতা হয়নি। তার মধ্যেই মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র আসুক, আমেরিকা তা কখনওই চায় না। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এতে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা নষ্ট হবে। প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে গোটা বিশ্বেরই নিরাপত্তা। তবে ট্রাম্প কূটনৈতিক পথেই সমাধানের কথা ভাবছেন বলে জানান রুবিও। তার পরেই সুর খানিক নরম করে আপসের বার্তা দিল তেহরান।
প্রসঙ্গত, গত বছর ইরান-ইজরায়েল বিবাদের সময়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল তেহরান। সেই সময় ইরানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে হামলাও চালিয়েছিল আমেরিকা।
