ইরানে ঢুকে পাইলটকে উদ্ধার করে এনে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দাবি করা হচ্ছে, এই উদ্ধার অভিযানের যথেষ্ট মূল্য চোকাতে হয়েছে আমেরিকাকে। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে উদ্ধার করতে এসে ইরানের জবাবি হামলায় ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার সি-১৩০ এয়ারক্রাফট-সহ একাধিক বিমান। পাশাপাশি, এই অভিযান চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার (US Rescue Operation) করতে গিয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে পড়তে হয় মার্কিন যোদ্ধাদের। এই অভিযানে আসা একাধিক মার্কিন বিমানকে নিশানা করা হয়। ইরানি সেনার হামলায় দক্ষিণ ইসফাহানে মার্কিন সেনার একটি সি-১৩০ বিমানকে গুলি করে নামানো হয়। শুধু তাই নয়, আইআরজিসির তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দুটি ব্ল্যাক হোক হেলিকপ্টারকে ধ্বংস করেছে। এছাড়া ইজরায়েলের দুটি ড্রোনও ধ্বংস হয়েছে এই অভিযানে। অর্থাৎ ইরানের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে পাইলট উদ্ধারে নেমে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে আমেরিকা।
ইরানি সেনার হামলায় দক্ষিণ ইসফাহানে মার্কিন সেনার একটি সি-১৩০ বিমানকে গুলি করে নামানো হয়। আইআরজিসির তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দুটি ব্ল্যাক হোক হেলিকপ্টারকে ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনার অভিযানে এবং তাদের এলোপাথাড়ি বোমাবর্ষণে ইরানের ৫ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গত রাতে আমেরিকা কোহ-ই-সিয়াহ এলাকায় তাদের পাইলটের সন্ধানে নেমেছিল। সেখানেই গোলাগুলি চলাকালীন মৃত্যু হয় ৫ জনের। নিহত সকলেই কোহগিলুয়ে এবং বোয়ের আহমদ প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানে অপারেশনে গিয়ে ভেঙে পড়ে আমেরিকার দুই যুদ্ধবিমান। সেদিনই একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, আমেরিকার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইরানের তরফেও ওই পাইলটকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর রবিবার সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, দুঃসাধ্য সেই অভিযান সফল হয়েছে। ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে পাইলটকে। পাইলটকে উদ্ধার করতে এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ ‘জলি গ্রিন টু’ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ অ্যাটাক জেট, একটি এইচসি-১৩০ উদ্ধারকারী মিড-এয়ার ট্যাংকার, এফ-৩৫ স্টেলথ জেট, স্পেশাল ফোর্সেস এবং অনুসন্ধানকারী দলের বিশেষ ইউনিট।
