ঠিক যেন সিনেমা। বিমান ধ্বংস হওয়ার পর কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেও শত্রু দেশে আটকে পড়েছেন পাইলট। ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে গোপন অভিযান চালিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান (Iran) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন (US) পাইলটকে। রবিবার কার্যত নিজের পিঠ চাপড়ে সদর্পে এই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানান, অত্যন্ত কঠিন এই অপারেশন চালাতে এক ডজনের বেশি এয়ারক্রাফট, অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত স্পেশাল ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কিন্তু কীভাবে এই অপারেশন সফল করল মার্কিন সেনা?
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার বিমান ধ্বংসের পর প্যারাস্যুটের মাধ্যমে মাটিতে নেমেছিলেন ওই পাইলট। কোনওভাবে ইরানি সেনার চোখ এড়িয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। তবে ওই পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিল মার্কিন সেনা। জিপিএসের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হচ্ছিল তাঁকে। ইরানের সেনাবাহিনীকে পাইলটের থেকে দূরে রাখতে গত দু'দিন ধরে লাগাতার বোমাবর্ষণ করে মার্কিন সেনা। পাইলটকে উদ্ধার করতে এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ 'জলি গ্রিন টু' উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ অ্যাটাক জেট, একটি এইচসি-১৩০ উদ্ধারকারী মিড-এয়ার ট্যাংকার, এফ-৩৫ স্টেলথ জেট, স্পেশাল ফোর্সেস এবং অনুসন্ধানকারী দলের বিশেষ ইউনিট। এর মধ্যে এইচএইচ-৬০ডব্লিউ কপ্টার উদ্ধারকাজের জন্য অত্যন্ত দক্ষ। প্রচণ্ড গোলাগুলির মাঝেও দ্রুত উদ্ধারের জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী উত্তোলন যন্ত্র। এর দরজায় থাকে বিশেষ বন্দুক যা আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এতে প্যারাট্রুপার ও উদ্ধার সরঞ্জামের জন্য একটি বড় কেবিন রয়েছে।
ইরানের সেনাকে বিভ্রান্ত করতে আকাশপথে শুরু হয় বোমাবর্ষণ। পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর সিআইএ হোয়াইট হাউস, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং পেন্টাগনের সঙ্গে তাঁর লোকেশন ভাগ করে নেয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইরানের সেনাকে বিভ্রান্ত করতে আকাশপথে শুরু হয় বোমাবর্ষণ। পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর সিআইএ হোয়াইট হাউস, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং পেন্টাগনের সঙ্গে তাঁর লোকেশন ভাগ করে নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় অভিযান। শনিবার রাতে স্পেশাল ফোর্সের একটি দল পাইলটের কাছাকাছি অবতরণ করে। এ-১০ ওয়ারথগ আকাশ থেকে তাদের নিরাপত্তা দেয়। অন্যদিকে, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ইরানের সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য শত্রু শিবিরের কাছাকাছি পৌঁছে শুরু করে গোলাগুলি। এসবের মাঝেই নির্বিঘ্নে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ পাইলটকে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানে অপারেশনে গিয়ে ভেঙে পড়ে আমেরিকার দুই যুদ্ধবিমান। সেদিনই একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, আমেরিকার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগলের পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইরানের তরফেও ওই পাইলটকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর রবিবার সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, দুঃসাধ্য সেই অভিযান সফল হয়েছে। ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে পাইলটকে।
