যুদ্ধের একমাস পার। এখনও ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ রুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এদিকে আগামী ৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চরমসীমা। সে কথা মনে করিয়ে ট্রাম্প ফের হুমকি দিলেন ইরানকে। বললেন, “৪৮ ঘণ্টার হরমুজ না খুললে নরক নেমে আসবে।”
শনিবার ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘ইরানকে আমি দশ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলাম। হয় হরমুজ মুক্ত করুন না হলে চুক্তি করুন। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে যাচ্ছে। আর ৪৮ ঘণ্টা বাকি রয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ না খুললে ইরানের উপর নরক নেমে আসবে।’ প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তেমনটাই হচ্ছে। হরমুজ বন্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও 'বন্ধু' ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান। কিন্তু হরমুজ মুক্ত করা নিয়ে ইরানকে বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু মার্কিন হুঁশিয়ারি উড়িয়ে নিজ অবস্থানেই অনড় তেহরান। হরমুজ মুক্ত করা নিয়ে ট্রাম্প যে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তা শেষ হচ্ছে আগামী ৬ এপ্রিল। এরপর কী হয় সেটাই এখন দেখার।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প। নিজের ঘনিষ্ঠমহলে সে কথা জানিয়েছেনও তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বলপূর্বক হরমুজের ‘তালা’ খুলতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এই সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে। ট্রাম্প প্রথামিকভাবে অনুমান করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে যাবে। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। ক্রমেই বাড়ছে খরচ। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইছেন যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ শেষ করতে। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজের থেকেও যুদ্ধে দাঁড়ি টানতে বেশি আগ্রহী। এসবের মধ্যেই হরমুজ নিয়ে ইরানকে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
